‘নিহত শ্রমিকদের আন্তর্জাতিকমানে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি’

0
31
Abul Moksud

Abul Moksudদুর্ঘটনায় নিহত সকল শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিতে হলে আন্তর্জাতিক মানে দেওয়ার দাবি তোলেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।

বুধবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিল্স) এর উদ্যোগে বিশ্ব নারী দিবসের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ৭২ লাখ টাকা করে দিতে হবে কিন্তু আমাদের সরকার দিতে না পারলেও অন্তত ৪০ লাখ টাকা এবং আহতদের ২০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

‘কর্মক্ষেত্রের দুর্যোগ-দুর্ঘটনা: নারীর অন্তহীন শোকগাঁথা ও অনিশ্চিত যাত্রা’ এই আলোচনা সভাটি আয়োজন করে।

মকসুদ বলেন, রানা প্লাজার মত এমন নির্মম ঘটনা পৃথিবীর আর কোথাও ঘটেনি। রাজনীতির নোংরামির কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাই এই দিনটিকে জাতীয় শ্রমিক সংহতি দিবস হিসেবে ঘোষণারও আহ্বান জানান তিনি।

একুশে টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মঞ্জুরুল আলম পান্না বলেন, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সংগঠনগুলো ব্যবসা করছে। যদি তারা তা না করতো তাহলে এখনও পর্যন্ত শ্রমিকদের পাওনা নিয়ে মিমাংসা হচ্ছে না কেন?

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে ১২৬ কোটি টাকা জমা হয়েছে। অথচ মাত্র ১৮ কোটি টাকা শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

দৈনিক সমকালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন রানা প্লাজায় নিহত ও আহতদের জন্য সাহায্যের টাকা জমা হচ্ছে। কিন্তু এই টাকা কোথায়, কিভাবে হচ্ছে বা কতটাকা জমা হচ্ছে? তা জাতি জানতে চায়। সরকারের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে এই টাকার পরিমাণের কথা জানাতে হবে।

তিনি বলেন, যেখানে আমাদের অর্থমন্ত্রী ৪ হাজার কোটি টাকাকে বলেন, এটা কোনো টাকা না, সেখানে কেন শ্রমিকরা উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না।

কতজন শ্রমিক রানা প্লাজায় নিহত হয়েছে তার সঠিক হিসেব এখনও জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে ১ হাজার ১৪০ জন। কিন্তু এখনো অনেকে নিঁখোজ রয়েছেন। তাদের পরিসংখ্যান ছাড়া তো সঠিক তথ্য জানা সম্ভব নয়। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সকল লুকোচুরি পরিহার করে নিহতদের সঠিক তথ্য জাতিকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রানা প্লাজা ও তাজরিন ফ্যাশনের দুর্ঘটনার শিকারে নিহত, আহত নারী ও তাদের পরিবারের প্রতি সরকার মৌখিক সমবেদনা জানালেও বাস্তবিক অর্থে সহানুভূতির হাত গুটিয়ে নিয়েছেন। এ সময় রানাপ্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের সমন্বয়কারী ড. হামিদা হোসেন, দৈনিক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, রওশন জাহান, শিরীন আখতার, নজরুল ইসলাম খান, কোহিনুর মাহমুদ প্রমুখ। এ সময় মোমেনা বেগম, রেহানা আক্তার, সোনা বানু, সুরাইয়া ইয়াসমিন, সেলিনা, আলেয়া বেগম, নাজমা, মুক্তাসহ আহত শ্রমিক ও নিহত শ্রমিকদের স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

জেইউ/এএস