জাবিতে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা

0
38
JU

JUগোলাগোলির ঘটনায় বহিষ্কারের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করতে উঠেপরে লেগেছে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক গ্রুপের নেতা-কর্মীরা। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে অস্ত্রবাজি ছাড়াও এসব নেতা-কর্মীরা ছিনতাই, মারধর, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চাঁদাবাজির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া, তাদের বিরুদ্ধে ছাত্রী-শিক্ষক লাঞ্ছনা ও সাংবাদিক পেটানোর অভিযোগও রয়েছে। ওই গ্রুপের নেতা-কর্মীদের শো-ডাউনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ। যেকোনো সময় আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ৩ মার্চ খাওয়াকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক রাজীব আহমেদ রাসেল শহীদ সালাম বরকত হলের নিজস্ব কর্মীদের নিয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের নেতা-কর্মীদের সাথে প্রকাশ্যে সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশ অমান্য করে দুই দফা হামলার ঘটনায় ১ জন গুলিবিদ্ধসহ ৩০ জন আহত হয়। সংঘর্ষের পর তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে এ সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক রাজীব আহমেদ রাসেলসহ চারজনকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।

এছাড়া, গত বছরের ৬ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেট এলাকায় সিন্ডিকেট সদস্য ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক নুরুল হককে লাঞ্ছিত করেন ছাত্রলীগ সেক্রেটারী রাজীব আহমেদ রাসেল। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি বিচার দাবি করলেও তার কোন শাস্তি হয়নি। একই বছরের ৮ এপ্রিল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সুমন, জোনায়েদুল হক পারভেজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক হওলাদার মহিবুল্লাহর নেতৃত্বে ৪-৫ জন ছাত্রলীগ কর্মী অস্ত্রসহ ছাত্রদল নেতা রেজাউল করিম রাজুর ওপর হামলা চালায়। এছাড়া গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সেক্রেটারী গ্রুপের পক্ষে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করতে গিয়ে দু’জনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা। আটককৃত বহিরাগত হিমেলের দাবি, জাবি শাখা ছাত্রলীগের সেক্রেটারী গ্রুপের নেতাদের নির্দেশে তারা ভর্তি পরীক্ষা উপলক্ষ্যে ডেইরি গেটের প্রতিটি গাড়ি থেকে তিনশ টাকা চাঁদা আদায় করছিলেন।

সর্বশেষ সংঘর্ষের ঘটনায় বহিষ্কারাদেশের পরেও ওই গ্রুপের নেতা-কর্মীরা তাদের বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় অস্থিতিশীল করতে সাধারণ-সম্পাদক গ্রুপের নেতা-কর্মীদের প্রতিদিন বটতলা এলাকায় শো-ডাউন করতে দেখা যায়। যেকোনো সময় আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।