সময়মত আমদানি বিল পরিশোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ

0
75
বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন (ফাইল ছবি)

বাংলাদেশ ব্যাংকনির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণপত্রের বিপরীতে আমদানি বিল পরিশোধের জণ্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।প্রজ্ঞাপনটি ওইদিনই দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কিছু কিছূ তফসিলি ব্যাংক আমদানির বিপরীতে মূল্য পরিশোধ করছে না। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও মূলত অবহেলা এবং গুরুত্ব না দেওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে। এসব ব্যাংকে নতুন করে সতর্ক করতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়,সময়মত আমদানি বিলের মূল্য পরিশোধ না করায় দেশের ব্যাংক ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।তাছাড়া বিলম্বের জন্য সুদ পরিশোধসহ ঋণপত্রে বিদেশী ব্যাংকের কনফার্মেশন বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈদেশিক আমদানিকে ব্যয়বহুল করেছে।এ ধরণের অনিয়মের ফলে আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি সরাসরি দ্রব্যমূল্যকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে,অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের স্থাপিত আমদানি ঋণপত্রের বিপরীতে সরবরাহকারীর বিলের স্বীকৃত দায়ের মূল্য যথাসময়ে পরিশোধ সম্পন্ন করার জন্য ব্যাংক কোম্পানী আইন ১৯৯১ এর ৪৫ নং ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশ পরিপালনে ব্যর্থতায় আইনের ১০৯(৭) নং ধারার আওতায় জরিমানা আরোপ করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংকের গাইডলাইনস ফর ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকসনের ৭ অধ্যায়ের ২৯ ধারা অনুযায়ী, বিল অব এন্ট্রি ৪ মাসের মধ্যে জমা দিতে হয়। আর গাইডলাইনসের ৮ অধ্যায়ের ১৩ ধারা অনুযায়ী, পণ্য জাহাজীকরণের বিপরীতে জাহাজীকরণের তারিখ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মূল্য ফেরত দিতে হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের জনতা ব্যাংকের জনতা শাখায় ৫.২৫ মিলিয়ন, বেসরকারি খাতের মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উত্তরা শাখার ৩৫ লাখ ৪০ হাজার, পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ৪.৪৭ মিলিয়ন এবং সাউথইস্ট ব্যাংকের প্রিন্সিপাল শাখার ২২ লাখ ৭০ হাজার ডলার অপরিশোধিত স্বীকৃত বিল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এর বাইরেও এ ধরনের অনিয়মে জড়িত আরও কিছু ব্যাংকের নাম শোনা যাচ্ছে।

এছাড়া,জনতা ব্যাংকের জনতা শাখার ৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলার ওভারডিউ এক্সপোর্ট বিল এখনও আসেনি বলে জানা গেছে।

 

এসএই/