হাইটেকপার্কে হবে ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান : জয়

0
31

joyসরকারের চলতি মেয়াদেই দেশের হাইটেক পার্ক প্রকল্প বাস্তবায়নের জোর তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেছেন, এই হাইটেকপার্ক বাস্তবায়িত হলে এখানে ৬০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।ল

বুধবার দুপুরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সজিব ওয়াজেদ জয় বলেন, কালিয়াকৈরের হাইটেক পার্কে আন্তর্জাতিক মানের আইটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। যেখানে বিদেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসবে আইটি টেনিং নিতে। বর্তমানে আইটি ট্রেনিং ইন্সটিটিউট গড়ে তোলা হবে। যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং সেন্টারে পরিণত হবে।

তিনি আরও বলেন, হাইটেক পার্কে আমরা শুধু ইন্ডাস্ট্রিয়ালের ওপর গুরুত্ব দিতে চাই না। পাশাপাশি সফটওয়্যার সেন্টারের জন্য অফিশিয়াল বিল্ডিং থাকতে হবে। ঢাকার ভেতর জায়গা না থাকায় এখানে এটি করার পরিকল্পনা করা হয়।
তিনি বলেন, মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ ১৫ বছর পার হয়ে গেছে। এখন সম্ভব দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে হবে।

দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকল্পটি আরও দৃষ্টিনন্দন করতে প্রকল্প এলাকার পরিধি আরও ১০০ একর বাড়ানোর ঘোষণাও দেন তিনি।

জয় প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী প্রকল্পের পরিধি বাড়াতে পাশেই মন্ত্রণালয়ের মালিকাধীন তালিবাবাদ ভূ উপগ্রহ কেন্দ্রের আরো একশ একর জমি হাইটেক পার্ককে দেবার ঘোষণা দেন।

বর্তমানে হাইটেক পার্কের অধীনে রয়েছে ২২২ একর জায়গা। প্রকল্প এলাকায় দ্রুত যাতায়াতের সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত গতির কমিউটার ট্রেন সার্ভিস ও প্রকল্প এলাকা ঘেষে আধুনিক একটি রেল স্টেশন নির্মাণের কথাও জানান সজীব ওয়াজেদ জয়।

জয় বলেন, মায়ের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় হাইটেক সিটি পরিদর্শন করে দেশেও এমন একটি সিটি গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

জয় বলেন, প্রকল্প এলাকায় বিশ্বমানের প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদিত হবে। সৃষ্টি হবে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান।সরকার আয় করবে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা।

উল্লেখ, ১৯৯৯ সালের ১৭ জুলাই সর্বপ্রথম গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাইটেক পার্ক স্থাপনের কাজ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার।  ভূমি মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কাছে হাইটেক পার্কের জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রায় ২৩২ একর জায়গা হস্তান্তর করে। হাইটেক পার্কের বর্তমান জায়গাটির মালিকও ছিল তালিবাবাদ ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের। জায়গা বুঝে পাবার পরও পার্কের মূল অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করতে অতিক্রম হয় দুই বছর।

২০০৬ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে হাইটেক পার্কের মূল অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু করে সরকার। দেয়া হয় সীমানা প্রাচীর। গড়ে ওঠে দৃষ্টিনন্দন গেইট ও একটি প্রশাসনিক ভবন। তবে মামলাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে পিছিয়ে যায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন। সর্বশেষ হাইটেক পার্ক নিয়ে চলমান মামলাটি গতমাসে নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু হয় মন্ত্রণালয়ে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দকী, প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ সিদ্দিকী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, ঢাকা-১৯ এর সংসদ সদস্য এনামুর রহমান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দীন আহমেদ প্রমুখ।