রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

0
55

দুর্নীতি দমন কমিশনরাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আজিজুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে করে দুদক।

বুধবার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক যতন কুমার রায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন বলে নিশ্চিত করেন দুদক সূত্র।

দুদক সূত্র জানায়, ড. খন্দকার শওকত হোসেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকাকালিন ২০০১ সালে নিজের নামে সম্প্রসারিত উত্তরা প্রকল্পে তিন কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়ে পাঁচ কাঠায় রূপান্তরিত করেন। সেখান থেকে দুই কাঠা বিক্রি করার পরেও ডেভেলপমেন্টের জন্য পুরো পাঁচ কাঠার আমমোক্তার প্রদান করেন। ২০০৪ সালে পূর্বাচল প্রকল্পে স্ত্রী ড. আয়েশা খানমের নামে সাড়ে সাত কাঠার প্লট বরাদ্দ নিয়ে প্রথমে ১০ কাঠা এবং পরে সাড়ে ১২ কাঠায় উন্নীত করেন। রাজউকের উত্তরা আবাসিক প্রকল্পে অভিনব কায়দায় মায়ের নামে নিয়েছেন তিন কাঠার প্লট। একই পন্থায় তিন কাঠার প্লটকে পাঁচ কাঠায় উন্নীত করেন।

খন্দকার শওকত প্রভাব খাটিয়ে উত্তরা আবাসিক প্রকল্পের ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রাস্তায় ১০৬ নম্বর প্লটটি প্রথমে তার বন্ধু আবু হানিফ মাহমুদের নামে বরাদ্দ নেন। ১৯৯৫ সালের ১২ মার্চ হানিফের কাছ থেকে সাফ-কবলা ‘ক্রয়’ দেখান তার মা জাকিয়া আমজাদের নামে। তার মাকে দিয়েই তিন কাঠার প্লট পাঁচ কাঠায় উন্নীত করার আবেদন দেন।

সেই আবেদনে বলা হয়, “উত্তরা আবাসিক প্রকল্পের ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬নং সড়কের ১০৬ নম্বর প্লটটি বিমান-উড্ডয়ন এলাকার আওতায় হওয়ায় এখানে উঁচু ভবন নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাসের উপযোগী নয়। তাই এটির পরিবর্তে অন্য সেক্টরে এখনই বাড়ি করার উপযোগী পাঁচ কাঠার প্লট বরাদ্দ দেওয়া হোক।”

একইভাবে তিনি নিজের এবং তার স্ত্রীর নামে নেওয়া প্লটের আকার বৃদ্ধির আবেদনেও একই কারণ উল্লেখ করেন। তার মায়ের নামে কেনা প্লটের আকৃতি বাড়ানোর আবেদনটিতে কোনো তারিখ নেই। তবুও আবেদনটি ২০১১ সালের ১০ মে রাজউকের বোর্ড মিটিংয়ে উপস্থাপিত হয়। অনুমোদন লাভ করে একই বছর ১২ মে। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানে আবেদনটি মঞ্জুর হয়ে যায়।

দুদকে সূত্র জানায়, সচিব ড. খন্দকার শওকত হোসেন বে-আইনিভাবে নামে-বেনামে তিনটি প্লট বরাদ্দ নিয়ে ওইসব প্লটের আকার বাড়ানোর বিষয় এবং এ কাজে রাজউকের সহায়তার অভিযোগ অনুসন্ধান শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে দুদক। ইতোমধ্যে কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর এবং রাজউকের কাছ থেকে পাওয়া নথিপত্রে কিছু অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ ছাড়া দুদক সাবেক গৃহায়ন সচিব ড. খন্দকার শওকতের নামে-বেনামে তিনটি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার বিষয়েও সত্যতা পেয়েছে। যার অধিকরতর অনুসন্ধানে রাজউকের বর্তমান সাবেক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।