ছেলের প্রতি ভালোবাসা; বাবা-ছেলে দুইজনই সেরা

0
170

best-dadদুর্গম পাহাড়ী পথ। এবরো থেবরো। উঁচু নিচু। পথটিতে একামানুষের পক্ষেই হেঁটে যাওয়া কষ্টের। পথের ওই বন্ধুত্বতা আটকাতে পারেনি ইউ জাংকাংকে। সন্তানের প্রতি ভালোবাসার কাছে পরাজিত হয়েছে সকল প্রতিবন্ধকতা, প্রতিকূলতা। তিনি যেন ঠিক বাবা নন, একই সাথে ছোট্ট ছেলেটির মাও বটে।

শারীরিক প্রতিবন্ধী সন্তানের লেখাপড়ার জন্য প্রতিদিনই ওই দুর্গম পাহাড়ী পথে হেঁটে যান ১৮ মাইল পথ। কিন্তু তার কাছে এ যেন তেমন কিছুই না। প্রতিদিন ছোট্ট ছেলেটিকে একটি ঝুঁড়িতে বসিয়ে রওনা দেন ছেলের স্কুলের পথে।

এমনটি করছেন তিনি বেশ কিছু দিন থেকেই। আর  স্বীকৃতিও মিললো তার। পেলেন চীনের সেরা বাবার খেতাব। সম্প্রতি মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে একমাত্র প্রতিবন্ধী ছেলে জুয়াও কুয়াংকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্কুলে নেওয়ার জন্য এ খেতাব পান তিনি।

আর ছেলেটিও লেখাপড়ায় অন্যদের ছাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বেশ। ক্লাসে পাচ্ছে সবার ভালোবাসা।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে একটানা এই কাজ করে যাচ্ছেন ৪০ বছর বয়সী ইউ। চীনের সিচুয়ান প্রদেশের ইবিন এলাকার বাসিন্দা তিনি। আশেপাশের কোনো স্কুলে প্রতিবন্ধী ছেলেকে ভর্তি করাতে না পেরে  দূরের একটি স্কুল ভর্তি করান তিনি। কিন্তু স্কুল বাস না থাকায় এবং পর্যাপ্ত যানবাহনের অভাবে তিনি হেঁটেই ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যেতেন। আর ছেলেকে নিয়ে যাওয়া ও আসার মাঝের সময়টিতে তিনি করতেন সংসারের যাবতীয় কাজ।

ইউ জানান, তার ছেলে তিন বছর বয়স থেকেই তার কাছে থাকে। তখন থেকে সংসারের সব কাজসহ নিজ হাতেই তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।

তিনি বলেন, ছেলেটির বয়স এখন বার বছর হলেও সে মাত্র ৯০ সেমি লম্বা। এমনকি সে হাঁটতেও পারেনা। তবে ছেলেটির মেধার কারণে তাকে আমি কষ্ট করে হলেও স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি।

এ খবর স্থানীয় পত্রিকায় প্রকাশের পর সরকার তাকে শ্রেষ্ঠ বাবা ঘোষণা করে। একইসাথে স্কুলের কাছাকাছি একটা থাকার ব্যবস্থা করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু তাই নয়, স্কুল কমিটিও ইতোমধ্যে তার সন্তানের জন্য আবাসিক ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।