সব মেডিক্যালে নেফ্রোলজি বিভাগ খোলার দাবি বিশেষজ্ঞদের

0
84
kidney

kidneyকিডনি রোগ প্রতিরোধ করতে প্রত্যেক মেডিক্যাল কলেজে নেফ্রোলজি বিভাগ খোলা ও নেফ্রোলজিস্টদের পদ সৃষ্টি করা দরকার বলে মনে করছেন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা।

সেই সাথে কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলায় কিডনি রোগের স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু ও প্রত্যেক জেলায় অন্তত একটি করে ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করার আহ্বান জানান তারা।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, দেশে ১৬ কোটি মানুষের জন্য রয়েছে ১০০ জন কিডনি বিশেষজ্ঞ এবং ২০ জন ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন। সে হিসেবে একজন ডাক্তারকে দিনে ৭০০ জন রোগী দেখতে হয়, যা অসম্ভব। তাই এই সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে দিন দিন এর প্রকোপ আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে প্রায় দুই কোটি লোক কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। প্রায় ৮৫ ভাগ রোগী কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে বুঝতেই পারে না যে তারা কিডনি রোগে আক্রান্ত।

কিডনি রোগ হওয়ার কারণ সম্পর্কে তারা বলেন, নেফ্রাইটিস, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ এই তিনটি কারণে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ রোগীর ধীর গতির কিডনি বিকল ক্রনিক কিডনি ডিজিজ হয়।

এছাড়া কিডনি রোগের প্রধানতম কারন হল ডাইরিয়াজনিত পানি শূন্যতা, অতিরিক্ত ক্ষরণে রক্তচাপ কমে গিয়ে সংক্রমণ যেমন অপারেশন পরবর্তী ইনফেকশন, অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ বা এন্টিবায়োটিক সেবনের কারণেও এই রোগ হয়ে থাকে।

কিডনি রোগ প্রতিরোধে বিশুদ্ধ পানি নিশ্চিত করা ও ভেজাল খাদ্য বিশেষ করে মসলা জাতীয় খাদ্যগুলো পরিহার করতে হবে বলেও জানান কিডনি বিশেষজ্ঞরা।

কিডনি রোগ বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও কিডনি বিষয়ে আগামি ১৩ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে বলে জানান তারা।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএসএমএইউর কিডনি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল আলম, অধ্যাপক ডা. এম মুহিবুর রহমান, অধ্যাপক ডা.এম এ সামাদ, অধ্যাপক ডা. ফিরোজ খান, ডা. শহিদুল ইসলাম ডা. নবীউল হাসান প্রমুখ।

জেইউ/