পার্বত্য চট্টগ্রামের ফল বিপর্যয়ে পিছিয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড

প্রতিনিধি

0
69

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০১৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ; যা গত বছরের চেয়ে ৬ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। পাসের হার কমার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩ জেলার ফলাফলকে দুষছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, গত বছর পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি জেলায় পাশের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। এবার এই জেলায় পাশ করেছে মাত্র ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরে এই জেলায় পাশের হার কমেছে ২০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

খাগড়াছড়ি জেলায় গতবছর পাশের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ১ বছরের বাবধানে এবার এই জেলায় পাশ করেছে ৬২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরে এই জেলায় পাশের হার কমেছে ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ।

বান্দরবান জেলায় গতবছর পাশের হার ছিল ৮২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এবার এই জেলায় পাশ করেছে ৭৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ চলতি বছরে এই জেলায় পাশের হার কমেছে ৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

এদিকে কক্সবাজার জেলায় গতবছর পাশের হার ছিল ৯১ দশমিক ২৭ শতাংশ। গতকাল প্রকাশিত পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯২ শতাংশ।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান বলেন, গত বছর এই পার্বত্য চট্টগ্রামে ফলাফল বেশ ভালো হয়েছিল। তবে এবার সামগ্রিক ফলাফল খারাপ হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে ফলাফল বেশী খারাপ হয়েছে।

রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দুই জেলায় ২০ দশমিক ৪৯ এবং ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ পাস কম এসেছে। এতে বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। আগামীতে এই দুই জেলায় যেন ভালো হয় সে বিষয়ে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মোহাম্মদ মাহাবুব হাসান বলেন, মহানগরে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে তুলনামূলকভাবে যোগ্য শিক্ষক থাকলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব বিষয়ে তেমন ভালো শিক্ষক নেই। সৃজনশীল গণিত বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী এবারও ভাল ফলাফল করতে পারেনি। তাই পাসের হারে গিয়ে তা প্রভাব ফেলেছে। তাছাড়া সৃজনশীল অন্যান্য বিষয়ে একটি প্রশ্ন বেশী লেখা ও অবজেক্টিভ ১০ মার্ক কমে যাওয়া ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ।

উলেখ, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছাত্র ও ছাত্রীদের মধ্যে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ এবং ৮৪ শতাংশ। সেখানে ২০১৬ সালে ছিল যথাক্রমে ৯০ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ৯০ দশমিক ৯৭ শতাংশ। এদিকে ২০১৫ সালে ছাত্র ও ছাত্রীদের পাসের হার ছিল যথাক্রমে ৮২ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ৮৪.৬০ শতাংশ।

দেবব্রত/এসএম