ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনতে মাঠে নেমেছে বিজিএমইএ

0
28
127 new rmg factory at sick list

garments_11রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া পোশাক ক্রেতাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিএমইএ। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের এ সংগঠনটি ইতোমধ্যে ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এছাড়া গত কয়েক মাসে যেসব রপ্তানি আদেশ বাংলাদেশ থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে সেগুলোর কিছু অংশ আবার ফিরিয়ে আনারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিদেশি ক্রেতারা। অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতে পোশাকের মূল্য বেশী হওয়া সত্ত্বেও ভারত ও ভিয়েতনামসহ কয়েকটি দেশে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ চেষ্টা করছে, ওইসব আদেশ বাতিল করিয়ে দেশে নিয়ে আসার ব্যাপারে ক্রেতাদের রাজী করাতে।

জানা গেছে, ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বিজিএমইএ তিনটি বিষয়কে বিশেষভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। বিজএমইএ ক্রেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। বর্তমানে দেশে শতভাগ স্থিতশীলতা বিরাজ করছে। আপাতত নতুন করে কোনো অস্থিরতার কোনো আশংকা নেই।

অন্যদিকে নতুন মজুরী কাঠামোর কারণে শ্রমিক অসন্তোষ হওয়ারও ভয় নেই।এছাড়া ভবন নিরাপত্তা ইস্যুতে আমেরিকা ও ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাদের দুটি ফোরামের সঙ্গে কাজ করছে বিজিএমইএ ও সরকার।

বিজিএমইএ বলছে, হরতাল-অবরোধে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ৪৭ দিন শ্রমিকরা কাজ করতে পারেনি। আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, এয়ারফ্রেইট, শিপমেন্টে বিলম্ব, পণ্য জাহাজীকরণের বাড়তি খরচসহ নাশকতায় ক্ষতির মুখে পড়ে পোশাক শিল্প। তাতে শিল্পের চেইন অব কমান্ড ধসে যায়। এছাড়া বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া, ক্রেতাদের আস্থা কমে গিয়ে রপ্তানি আদেশ স্থানান্তর হয়েছে।এখন ক্রতা ও অর্ডার ফিরিয়ে আনতে সংগঠনটি কাজ শুরু করেছে।

এ বিষয়ে সংগঠনটির দ্বিতীয় সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি অর্থসূচককে জানান, স্থানান্তর হওয়া অর্ডার ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছেন। কয়েক মাসের অস্থিরতা শেষে এখন ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরেছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, রানা প্লাজা ধ্বসের পর থেকে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছিলো তা এখন নেই। এখনকার পরিবেশ নিয়ে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠান সন্তুষ্ট বলে জানান তিনি।

তিনি মনে করেন, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, নিম্নতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও কম্প্লায়েন্স ইস্যুতে পোশাক কারখানার অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তায় কারখানা পরিদর্শন এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল থাকলে ক্রেতারা শিগগির অর্ডার ফিরিয়ে আনবে বলে মনে করেন তিনি।