১১ দফা দাবিতে খুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলে ধর্মঘট চলছে

0
61
khulna-map

খুলনা ম্যাপ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় খুলনা-যশোর অঞ্চলসহ দেশের সকল রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলে ২৪ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছে শ্রমিকরা।

বুধবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। ধর্মঘটের ফলে মিলগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

এর আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠকের পরও কোনো সুরাহা না হওয়ায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

এ ব্যাপারে প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আযমের সাথে পাটকল সিবিএ নেতাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় নেতারা বুধবার ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের ডাক দেন।

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টায় সকল শ্রেণির শ্রমিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালন করবেন।

সিবিএ নেতারা জনান, ধর্মঘটের পাশাপাশি বিজেএমসি শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে শ্রমিক নেতারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা দিতে পারেন। যেখানে থাকতে পারে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত কলকারখানায় মজুরি কমিশন ঘোষণা করেন। ওই কমিশন ২০০৯ সালের জুলাই মাসে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল। সরকারি গেজেট ২০১২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত মজুরি কমিশনের টাকা চার কিস্তিতে পরিশোধের কথা। সে অনুযায়ী এ বকেয়া টাকা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়। তিন কিস্তির টাকা ক্যাশ স্লিপের মাধ্যমে শ্রমিকদেরকে পরিশোধ করা হয়। তবে, শ্রমিকদের মজুরি কমিশনের এ অর্থগুলো পেতেও বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে। সর্বশেষ মজুরি কমিশনের চতুর্থ কিস্তির টাকা প্রদান বিষয়ে বাঁধে জটিলতা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুয়ায়ী বিজেএমসি শ্রমিকদের এ টাকা চেকের মাধ্যমে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শ্রমিকরা এ অর্থ পূর্বের ৩টি কিস্তির মতো ক্যাশ স্লিপের মাধ্যমে প্রদানের দাবি জানিয়েছে।

এ দাবিতে শ্রমিকরা গেটসভা, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। মিলের শ্রমিকদের আন্দোলনে মিলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, দাবি আদায়ে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের সিবিএ কার্যালয়ে সংগ্রাম পরিষদ, পাটকল শ্রমিকলীগ ও সিবিএ-নন সিবিএ নেতাদের এক জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে ১১ দফা দাবিতে ১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। সে অনুয়ায়ী ৯ দিনের কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে ৫ মার্চ মিলের ধর্মঘট থাকলেও ৪ মার্চ মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় পাট মন্ত্রণালয়ে পাট প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাট প্রতিমন্ত্রী  ১১ দফা বাস্তবায়নের জন্য ১১ মার্চ পর্যন্ত সময় চেয়েছিলেন শ্রমিক নেতাদের কাছে। বৈঠক শেষে নেতারা ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত করেন।

সে অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুরে পাট মন্ত্রণালয়ে শ্রমিক লীগ, পাটকল শ্রমিক লীগ, পাটসুতা বস্ত্রকল সংগ্রাম পরিষদ ও সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের সাথে পাট প্রতিমন্ত্রীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় বৈঠকের পর শ্রমিকরা পুনরায় এ কর্মসূচির ডাক দেন।

কেএফ