‘ফ্যাসীবাদের বিপদ মুখ্য বিষয়, এখনই তা রুখতে হবে’

0
56
Picture of Bam

Picture of Bamবর্তমান সরকার ফ্যাসীবাদ সরকার। ফ্যাসীবাদের বিপদ এখন মূখ্য বিষয় তাই একে এখনই রুখে দাঁড়াতে হবে বলে মত প্রকাশ করেছেন বাম মোর্চার নেতারা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে ফ্যাসীবাদের বিপদ: বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির করণীয়- শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে কয়েকটি বাম সংগঠনের নেতারা এ কথা বলেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেন,অগণতান্ত্রিক সরকার তাদের সমস্ত অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দিতে যুদ্ধাপরাধী বিচারকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সরকার ভোটারবিহীন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংবিধানকে কলুষিত করছে অভিযোগ করে নেতারা বলেন, এটা অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার ছাড়া আর কিছু নয়। যে সংসদে কোনো বিরোধী দল নেই তা কিভাবে মানুষের গণমানুষের সংসদ হয়।

বক্তারা বলেন, গত ৫ বছরে সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসনে মানুষের মধ্যে যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তাতে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে মহাজোটের পূণরায় ক্ষমতায় আসা সম্ভব ছিল না। আর সে জন্যই সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দলীয় সরকারের অধীনে ৫ জানুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করে তথাকথিত সর্বদলীয় সরকার গঠন করেছে।

দেশে-বিদেশে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পায়নি উল্লেখ করে তারা বলেন, এ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরই ভারতকে দুটি গ্যাস ব্লক ইজারা দেয়, রামপালের বিদ্যুৎ কেন্দ্র অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্মাণ করা এবং বিদ্যুতের দাম আরও একদফা বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে। আর সরকারের এ সকল পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জনআন্দোলন দমন করতেই নির্বিচারে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুম-খুন করা হচ্ছে।

এ সময় শেখ সেলিমের আন্দোলন কারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাত-পা কেটে দেওয়ার হুমকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।

সন্ত্রাস, দলীয়করণ, লুটপাট, বিচার বহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস শুরু করেছে অভিযোগ করে তারা বলেন,  এসব অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, সভা-সমাবেশকে অগণতান্ত্রিকভাবে দমন করে সরকার এখন ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছে।

বৈঠকে ১৯ দলের সমালোচনা করে তারা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতসহ ১৯ দলীয় জোট গত ৪ মাসে সংঘাত-সহিংসতা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ করে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে। তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য হল ক্ষমতায় যাওয়া।

যুদ্ধাপরাধের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে দেশব্যাপী জামায়াত-শিবির সহিংসতা ও মানুষ হত্যা করছে বলেও অভিযোগ তোলেন বক্তারা।

মোর্চার সমন্বয়ক অধ্যাপক আবদুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, বাসদের শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ এর মোশাররফ হোসেন নাননু, শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দল সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এর হামিদুল হক প্রমুখ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর বজলুর রশীদ ফিরোজ প্রমুখ।

জেইউ/সাকি