ঋণ নিতে পারবে বিদেশী প্রতিষ্ঠান

0
71
foreign company

foreign companyশতভাগ বিদেশি মালিকানায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানও এখন স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বয়স হতে হবে ন্যুনতম ৩ বছর। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে মেযাদি ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন এসব কোম্পানিকে বিদেশী ব্যাংক থেকে ঋণ সংগ্রহ করে ব্যবসা চালাতে হত।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি এদিনই সকল ব্যাংক ও নন ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে যথেষ্ট পরিমাণ তারল্য থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশের উৎপাদন ও সেবাখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানী মেয়াদী ঋণ নিতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে যেসব কোম্পানী ৩ বছরের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম চালাচ্ছে তারাই কেবল টাকায় এ ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেওয়ার যাবতীয় শর্ত মেনে চলতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর পর বিদেশি কোম্পানিকে প্রদত্ত ঋণের তথ্য বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপকে (জিএম) জানাতে হবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, স্থানীয় বাজারে টাকা পরিমাণ অনেক বেশি আছে। আর এজন্য বিদেশি কোম্পানিগুলোকে এ ঋণ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি উৎস হতে ঋণ নিতে বিদেশিদের আকৃষ্ট করার জন্য সুযোগ দেওয়া হলো।

তবে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ কর্মকর্তারাই বলছেন,এ ধরনের ঋণ সুবিধা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের কাছে উন্মুক্ত করে দিলে দেশি প্রতিষ্ঠানের ঋণ পাওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বর্তমান ব্যবস্থায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো স্বল্পসময়ের জন্য ঋণ  পেলেও মেয়াদি ঋণ নিতে পারে না।

জানা গেছে, বর্তমান ব্যবস্থায় শতভাগ বিদেশি মালিকানায় পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা বা অন্য কোনো কারণে অর্থের প্রয়োজন হলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আনতে হয়। বেশিরভাগ  ক্ষেত্রে তারা নিজ দেশের ব্যাংক থেকে ঋণ এনে ব্যবসা পরিচালনা করে। এ ধরনের অর্থ  দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতে সহায়তা করে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ উন্মুক্ত করা হলে তখন আর তারা বাইরে থেকে অর্থ না এনে এখানকার টাকা নিয়ে ব্যবসা করবে। আর এভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়তে থাকলে এখানকার ব্যাংকের সুদ হার বর্তমানের তুলনায় আরও বাড়বে। এতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সক্ষমতার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এখানকার প্রতিষ্ঠানের জন্য কঠিন হবে। একটি পর্যায়ে দেশি উদ্যোক্তারা নানা জটিলতায় পড়ে নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হারাবেন। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনেক কর্মকর্তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ঋণ উন্মুক্ত করার বিরোধী।

এসএই/