দশ কারখানার প্রতিবেদন প্রকাশ; পরিদর্শনকালে শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তার আহ্বান অ্যাকর্ডের

0
73

dragonsweaterপোশাক কারখানা অগ্নি, বিদ্যুৎ ও ভবন নিরাপত্তায় ১০ কারখানার মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যাকর্ড অন ফায়ার অ্যান্ড বিল্ডিং সেফটি ইন বাংলাদেশ (অ্যাকর্ড)।

অ্যাকর্ডের প্রতিবেদন মতে পরিদর্শনকৃত কারখানাগুলোতে বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপন, বহির্গমন সুবিধা, ফায়ার ডোরের অপর্যাপ্ততার কারণে কাজের পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব সমস্যা সমাধানের জন্য তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কারখানা মালিকদের সুপারিশ করেছে।এছাড়া কারখানা সংস্কারকালীন ছয় মাসের বেতন সুবিধা দিতে পোশাক মালিকদের অনুরোধ করেছে অ্যাকর্ড।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারস্থ হোটেলে লা ভিঞ্চিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে।তাতে অ্যাকর্ডের দশটি কারখানা পরিদর্শন প্রতিবেদন ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয।

পরিদর্শন করা ১০টি কারখানার মধ্যে রয়েছে আলিফ গার্মেন্টস,আনলিমা টেক্সটাইল,বিগবস কর্পোরেশন,ড্রাগন সোয়েটার বাংলাদেশ, ফ্যাশন ইসলাম, গ্রামীণ নীট ওয়ার, মজুমদার ফ্যাশন, রেড পয়েন্ট জ্যাকেট, ভিয়েল্যাটেক্স, রিও ফ্যাশন ওয়ার ও রিও ডিজাইন লিমিটেড।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে কারখানাগুলো থেকে বাহির হওয়ার সিড়ি কিংবা বর্হিরগমনপথসহ অন্যান্য স্থান অগ্নি সহনশীল নির্মাণ সামগ্রি দিয়ে আলাদা করা নয়। এটা বিভিন্ন জায়গা দিয়ে নেমেছে।প্রধান বর্হিগমন সিড়ি ভবনের মধ্যেই জেনারেটর কক্ষ রয়েছে।

যে স্থানগুলো প্রোডাকশন ফ্লোর হিসেবে ব্যবহার করা হয় তা অগ্নি সহনশীল নির্মাণ দ্বারা আলাদা করা হয়নি। তাছাড়া প্রত্যেক তলাতে জরুরি অপসারণ পরিকল্পণা নেই। প্রত্যেক সিড়িতে তালাসহ গেট রয়েছে। বর্হিরগমন সিড়িতে সংরক্ষণাগার অবস্থিত।

বিদ্যুৎ নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্রুতের খুঁটি ট্যান্সফর্মার থেকে ৬ তলা সার্ভিস লাইনগুলো কোনো অবলম্বন ছাড়া প্রতিকুল পরিবেশে নিরাপত্তাহীনভাবে ঝুলে রয়েছে।কনক্রিট মেঝের উপরে সরসরি তার বিছানো,প্যানেলের তারগুলো তীক্ষ্মভাবে ভাজ করে সাজানো,  ভিতর ও বাহিরে তার ঢাকার জন্য নমনীয় পিভিসি নল ব্যবহার করা হয়েছে।Untitled

কাঠামোগত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবকাঠামোর নকশার সাথে নির্মিত কাঠামোর কোনো মিল নেই।জমাট বাদা কংক্রিটের স্তম্ভে কংক্রিটের চাপের মাত্রা ও ভিতরে শক্তি নিরুপন রয়েছে।

ক্রেতা জোটটি বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ার ও কারিগরদের নিয়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৫০০ কারখানা পরিদর্শন করার কথা জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাকর্ড ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালান রবার্টস সাংবাদিকদের বলেন, এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। অ্যাকর্ড সব সময়ই স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে চেষ্টা করছে। শুধুমাত্র দশটি কারখানার প্রতিবেদন নয় আগামি আট মাসের মধ্যে প্রায় ১৫০০ কারখানা পরিদর্শন করা হবে।

আর এসময় তাছাড়া ওই সময়ে মালিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করার আহ্বনও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যেতে পারে, আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন অল ও ইউএনআই এবং এদের স্থানীয় প্রতিনিধিসহ ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার ২০টি দেশের ১৫০টির অধিক ব্যান্ড ও রিটেইলারদের নিয়ে আইনগত চুক্তবদ্ধভাবে কাজ করছে অ্যাকর্ড।