আইপিও আবেদন পদ্ধতি সংস্কারে ধীরগতি

0
79
IPO_Applicant_Line

IPO_Applicant_Lineবিনিয়োগকারীদের দুর্ভোগ কমাতে ব্রোকারহাউজের মাধ্যমে আইপিও আবেদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতে তেমন অগ্রগতি নেই। ফলে আরও দীর্ঘদিন বিনিয়োগকারীদেরকে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন জমা দিতে হবে। ঝঞ্ঝাট পোহাতে হবে রিফান্ড ওয়ারেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে।

উদ্যোগটি থমকে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ বিনিয়োগকারীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার উদাসীনতার কারণেই প্রক্রিয়াটি জোরেশোরে আগাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণ প্রস্তাব বা আইপিও’র আবেদন পদ্ধতি সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ওই সময় তৈরি করা হয় নতুন পদ্ধতির খসড়া প্রস্তাবনা।

জানা যায়, এ পদ্ধতি কার্যকর হলে আইপিওতে আবেদনের সময় আবেদনকারীকে সঙ্গে কোনো টাকা জমা দিতে হবে না। লটারিতে তিনি বিজয়ী হলে তখন অর্থ পরিশোধ করলেই চলবে।

আবেদনের সঙ্গে টাকা জমা দেওয়া এবং লটারিতে অকৃতকার্য হলে ওই অর্থ ফেরত পাওয়ার হাঙ্গামা থেকে মুক্তি পাবেন বিনিয়োগকারীরা। এই পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট করা অর্থ জমা থাকলেই চলবে। লটারিতে আবেদনকারী জয়ী হলে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে সেখান থেকে টাকা চলে যাবে শেয়ার ইস্যুকারী কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে। অন্যদিকে আগাম টাকা জমা নেওয়া হবে না বলে লটারিতে অকৃতকার্য হলে তা ফেরতেরও প্রয়োজন পড়বে না।

বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যমান ব্যবস্থায় কোনো কোম্পানির প্রাইমারি শেয়ার পাওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে আইপিও ফরম ক্রয় বা সংগ্রহ করতে হয়। ফরমটি পূরণ করে আইপিওর জন্য নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থসহ জমা দিতে হয়। প্রতিটি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়ায় ব্যাংক টু দ্য ইস্যুর নির্ধারিত শাখার সংখ্যা কম থাকায় আবেদন জমা দিতে গিয়ে আবেদনকারীদের দীর্ঘসময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।

আবেদন সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো আবেদনকারীদের সামগ্রিক তথ্য ইস্যু পরবর্তী ব্যবস্থাপনা (পোস্ট ইস্যু ম্যানেজার) প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান সব আবেদন যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত শেয়ারের তুলনায় আবেদনের পরিমাণ বেশি হলে লটারির ব্যবস্থা করে। বুয়েটের তত্ত্বাবধায়নে লটারির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। লটারির মাধ্যমে যেসব আবেদনকারী শেয়ার বরাদ্দ পান, তাদের কোম্পানি ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থান থেকে বরাদ্দপত্র (অ্যালোটমেন্ট লেটার) গ্রহণ করতে হয়। বরাদ্দপত্রটি ব্রোকারেজ হাউজে জমা দেয়ার পর সফল আবেদনকারীর বিও অ্যাকাউন্টে শেয়ার জমা করা হয়।

অন্যদিকে লটারিতে শেয়ার পেতে ব্যর্থ আবেদনকারীকে কোম্পানি ঘোষিত সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান থেকে জমা থাকা অর্থের ফেরতপত্র (রিফান্ড ওয়ারেন্ট) সংগ্রহ করতে হয়। পরে ফেরতপত্রটি ব্যাংকে জমা দিলে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই টাকা তার হিসেবে জমা করা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ ফেরতপত্র সংগ্রহে ব্যর্থ হলে বা ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা হলে আবেদনকারীদের বড় রকমের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে রিফান্ড ওয়ারেন্ট পাঠানো হলেও অনেক বিনিয়োগকারীর কাছে তা পৌঁছে না। অনেক সময় আইপিওতে জমা থাকা টাকা ফেরত পেতে আবেদনকারীকে ২-৩ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

এ অবস্থায় ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের দুর্ভোগ থেকে রেহাই দেয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ হাউজের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ২ স্টক এক্সচেঞ্জের আওতাধীন ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে সব সময়ই গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ টাকা বা শেয়ার জমা থাকে। আজ পর্যন্ত কোনো ব্রোকারেজ হাউজ গ্রাহকের টাকা নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা করেছে বলে অভিযোগ আসেনি। ব্রোকারেজ হাউজের মাধ্যমে আইপিও আবেদন জমা নেয়া হলে সবদিক থেকেই প্রক্রিয়াটি সহজ হয়ে যাবে। এতে রিফান্ডের টাকা ফেরত পেতে অযথা সময় নষ্ট হবে না।

পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ অর্থসূচককে বলেন, আইপিও আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হলে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়বে। কারণ আইপিওতে যারা আবেদন করে, তাদের বেশিরভাগ ভুয়া একাউন্ট খোলে।

এতে এরা সহজে আইপিও লটারি জিতে। আর পরবর্তীতে বেশি দরে শেয়ার বেচে দিয়ে বাজার থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু যারা দীর্ঘেমেয়াদী বিনিয়োগ করে তারা এই আইপিও করলে বাজারের জন্য ইতিবাচক হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিএসইসির মুখপাত্র সাইফুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, আইপিও প্রক্রিয়া সহজ করতে আলোচনা হয়েছিল। বর্তমানে বলার মত কোন অগ্রগতি নেই। তবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে বিএসইসি উদ্যেগ নিয়েছিল। প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।