কমে গেছে তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয়

0
73

garments export decreaseতৈরি পোশাক রপ্তানিতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব।গত কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম ফেব্রুয়ারি মাসে এখাতের রপ্তানি আয় আগের মাসের চেয়ে কমে গেছে। আগের বছরের (২০১২) ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় রপ্তানি আয় বাড়লেও এ মাসের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে খাতটি। পোশাক শিল্পের প্রধান দুটি উপ-খাত নিট পোশাক ও ওভেনে একই অবস্থা। বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি)মাসিক রপ্তানি পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

তবে নভেম্বর পর্যন্ত উচ্চ প্রবৃদ্ধি হওয়ায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসের (জুলাই’১৩-ফেব্রুয়ারি’১৪) মোট রপ্তানি আয়ে এখনও ধ্বনাত্মক অবস্থা বজায় আছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত জানুয়ারি মাসে নিট পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১০৪ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। ফেব্রুয়ারিতে তা কমে ৯১ কোটি ৫৭ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। রপ্তানি আয় কমেছে ১৩ কোটি ডলার বা প্রায় ১২ শতাংশ।

ওভেন পোশাকে ফেব্রুয়ারি মাসে আয় হয়েছে ১০৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার। অথচ ঠিক আগের মাসেও এর পরিমাণ ছিল ১১৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এ হিসেবে রপ্তানি কমেছে  ১৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলার বা ১২ শতাংশ।

তবে আগের বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি আয় বেড়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিট পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৮১ কোটি ১২ লাখ ডলারের। আর ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছিল ৯৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার। আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ১২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

এদিকে জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে নীট পোশাক রপ্তানিতে আয় হয়েছে ৭৯১ কোটি ২ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।আর ওভেন খাতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৮২২ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

গত অর্থবছরের একই সময়ে নীট খাতে ৬৭৩ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার ও ওভেন খাতে ৭০৯ কোটি ৮৪ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

এর আগে জানুয়ারি নীট পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৬৯৯ কোটি ৪৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এ সময় ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭১৭ কোটি ৮৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার।

২০১২-১৩ অর্থবছরে নিটওয়ারে রপ্তানি হয়েছিলো ১০৪৭ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার। আর ওভেনখাতে রপ্তানি হয়েছিলো ১১০৩ কোটি ৯৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার।

চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে নিটখাতে ১১৫৭ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। আর ওভেন খাতে ১২৫৭ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখন পর্যন্ত রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকলেও এর হার কমে এসেছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিট ও ওভেন-পোশাক খাতে যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ ও ১৫ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। আর চলতি অর্থবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত যা ছিল যথাক্রমে ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ।ডিসেম্বরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল আরও বেশি। সে মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ ও ২০ দশমিক ৩৭ শতাংশ।  নভেম্বরে এ দুই খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২০ দশমিক ৪৮ শতাংশ ও ২১ শতাংশ।