উৎপাদনমুখী কৃষি গুরুত্ব পাবে: পরিকল্পনামন্ত্রী

0
65
lotus kamal
আ.হ.ম. মুস্তফা কামাল: ফাইল ছবি
lotus-kamal
আ হ ম মুস্তফা কামাল।

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (আরএডিপি) কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে উৎপাদনমুখী কৃষির ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আরএডিপি আকার নির্ধারণে পরিকল্পনা কমিশনের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেব। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন এডিপির আকার কেমন হবে। এটা কমবে না বাড়বে তা প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।

আজ সোমবার সাড়ে সাতটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটের রুপরেখা ওপর গণভবনে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। । বৈঠকটিতে পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থমন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে পারবেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা নির্ভর করবে অর্থপ্রাপ্তির ওপর। আমি আশাবাদী ৬০ থেকে ৬২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে পারবো।

তিনি আরও বলেন, আগামিতে প্রকল্প সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে। এত প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেয়ে কম প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও অনেক সহজ হবে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংশোধিত আরএডিপির প্রস্তাব করা হয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ও বৈদেশিক সাহায্য ২১ হাজার ২০০ কোটি টাকা সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এদিকে প্রস্তাবিত আরএডিপিতে পরিবহন খাতে সড়ক, সেতু, রেলওয়ে, নৌ ও বেসামরিক পরিবহনসহ মোট বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে নয় হাজার ২৫৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের পরিমাণ ছয় হাজার ৭১৭ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ দুই হাজার ৫৩৫ কোটি ১০ লাখ টাকা।

বিদুৎ খাতে মোট বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৭ হাজার ৭শ ২০ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের পরিমাণ চার হাজার ৫১৫ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ ৩ হাজার ২শ ৫ কোটি ৩ লাখ টাকা।

শিক্ষা ও ধর্ম খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে সাত হাজার ১শ ১০ কোটি ১০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৪শ ৯৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ এক হাজার ৬শ ১৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

কৃষি খাতে মোট তিন হাজার ৬৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে মোট পাঁচ হাজার ৯শ ৫০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, পানিসম্পদ খাতে মোট এক হাজার ৫শ ৬৭ কোটি টাকা, শিল্প খাতে মোট দুই হাজার ৭শ ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা; তেল, গ্যাস ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতে মোট এক হাজার ৫শ ৯২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা টাকা, যোগাযোগ খাতে মোট বরাদ্দ ৮শ ৭৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ণ খাতে চার হাজার ৭শ ১৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতে মোট ২১৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা; স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ খাতে মোট ৩ হাজার ৯শ ২৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা; বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে মোট এক হাজার ৪শ ৯৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা, জনপ্রশাসন খাতে মোট এক হাজার ২শ ৮৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা; সমাজকল্যাণ, মহিলা বিষয়ক ও যুব উন্নয়ন খাতে মোট ৪শ ৫২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান খাতে মোট ৩শ ১৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং গণসংযোগ খাতে মোট ৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এইচকেবি/