এ বছর সেরা পর্যটন দেশের পুরস্কার পাচ্ছে মায়ানমার

0
113

myanmarগণতান্ত্রিক শাসন ফিরে আসায় পর্যটকরা এখন হরহামেশাই ছুটছেন মায়ানমারে। এর ফলে প্রায় পাঁচ দশক পর চাঙ্গা হয়ে উঠেছে দেশটির পর্যটনসহ অন্যান্য ব্যবসা বাণিজ্য। শুধু তাই নয় এতে কর্মসংস্থান হয়েছে বিপুল সংখ্যক লোকের। দেশটির একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এখন প্রায় প্রতিদিনই পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে। আর পর্যটকদের কল্যাণে আয় বাড়ছে সাধারণ জনগণের। পর্যটক সংখ্যা বাড়ায় দেশটির স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এখন বেশ চাঙ্গা।

পর্যটন শিল্পে উত্তরোত্তর এতো উন্নতির কারণে এ বছর বিশ্বের সেরা পর্যটন দেশ হিসেবে ‘ওয়ার্ল্ডস বেস্ট ট্যুরিস্ট-২০১৪’ এর তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে সমুদ্র ঘেষা দেশটি। খুব শিগগরই এ পুরস্কার তাদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কাউসিল। রোববার সান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চীনের একটি বার্তা সংস্থা জিনহুয়াতে বলা হয়েছে, এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য শুধু এশিয়াতে নয় বরং সারা বিশ্বের পর্যটকদের কাছে দেশটির পর্যটন শিল্পের প্রতি মনোযোগ আকর্ষণ করা।  পর্যটন শিল্প, পর্যটকদের নিরাপত্তা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধরে রাখা ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করেই এ পুরস্কার দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের পর্যটন বিভাগ।MYANMAR_TVC

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি পর্যটন নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে পর্যটকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে দেশটির পর্যটন বোর্ড। মায়ানমারে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বেশ অপ্রতুল। তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই যেন অবকাঠামো উন্নয়ন সম্ভব হয় তাই একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে দেশটির সরকার।  আর পর্যটক বাড়াতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো ছাড়াও এশিয়ার ২৬টি দেশ এবং ইউরোপের পর্যটকদের জন্য ভিসা সহজ করেছে দেশটি। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে ভ্রমণ সুবিধা। সম্প্রতি পর্যটকদের জন্য ইন্স্যুরেন্স ভাতারও ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা।

প্রসঙ্গত ২০০৭ সালেই প্রথম ‘ওয়ার্ল্ড বেস্ট ট্যুরিস্ট ডেসটিনেশন’ পুরস্কার চালু করে জাতিসংঘ। তখন থেকেই প্রতিবছর বিশ্বের কোনো না কোনো দেশ এই পুরস্কার পেয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মায়ানমারের পর্যটক সংখ্যা দাড়ায় ২০ লাখ। এর মধ্যে ১১ লাখ ৪০ হাজার আসে সীমান্ত  পার হয়ে। অন্যদিকে বিমানবন্দরের মাধ্যমে  বাকি ৮ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭৬ জন পর্যটক দেশটিতে ভ্রমণ করেন।

এস রহমান/