বাজারের গতি বুঝছেন না খুলনার বিনিয়োগকারীরা

0
81
khulna-map

খুলনা ম্যাপদেশের পুঁজিবাজারে চলছে এই ভালো এই মন্দের খেলা। চলতি সপ্তাহের প্রথম দুই দিন বাজারে পতন অব্যাহত থাকায় খুলনার বিনিয়োগকারীরা অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তারা বলছেন, খানিকটা ঘুরে দাঁড়ানো বাজারের এ গতি আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বাজার যদি স্থিতিশীল না হয় তাহলে কেউ নতুন করে বিনিয়োগ করবেন না। বরং বাজার পর্যবেক্ষণে থেকে নতুন করে বিনিয়োগের প্রহর গুণতে থাকা বিনিয়োগকারীরা পিছু হটবেন অজানা শঙ্কায়।

বিনিয়োগকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজার মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তির হাতে বন্দী। এরা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে একে অপরের কাছে শেয়ারের হাতবদল করে দর বাড়ায় আবার কমায়।

অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীরা জানান, মহা ধসের সময় মূল পুঁজি হারিয়ে তারা এক দিকে যেমন অন্য ব্যবসা করতে পারছেন না অন্যদিকে খুলনায় বিকল্প আত্মকর্মসংস্থান না থাকায় পড়েছেন উভয় সংকটে। বিশেষ করে যারা মার্জিণ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেছেন তাদের অবস্থা খুবই করুণ।

এক বিশেষ অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্প নগরী খুলনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) অধীন ২০টি সিকিউরিটিজ হাউজ রয়েছে। যেখানে দেড় লাখের অধিক বিনিয়োগকারী রয়েছেন। বাজার ভালো অবস্থায় তাদের মধ্যে অধিকাংশ বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা করেছেন।

দীর্ঘ প্রায় চার বছরে এসব বিনিয়োগকারীরা পুঁজি হারিয়ে মার্জিন ঋণের বোঝা ঘাড়ে বইছেন। অনেকে রাগে, ক্ষোভে, অর্থ কষ্টে এ ব্যবসা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছেন।

মাকদুম নামের এক অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী বলেন, পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসে খুলনার লক্ষাধিক বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে যারা স্বল্পপুঁজি ও ঋণ নিয়ে এ ব্যবসা করতেন বর্তমানে তাদের অবস্থা খুবই করুণ। তারা না পারছেন ঋণ পরিশোধ করতে, না পারছেন অর্থের অভাবে অন্য ব্যবসা করতে।

মার্চেন্ট ব্যাংকে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিনিয়োগকারী বলেন, ৩০ লাখ টাকা মার্জিন ঋণ নিয়ে বাজারে বিনিয়োগ করেছিলাম। কিন্তু দীর্ঘ দরপতনে আজ তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। হতাশার সাথে তিনি জানান, বর্তমানে যে বেতন পান তার প্রায় পুরোটা দিয়ে ঋণ শোধ করতে হচ্ছে। ফলে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

অধিক ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী কামরুল ইসলাম লিটন জানান, তার তিন-চারটি পরিবহন বিক্রি করে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ভয়াবহ দরপতনে তিনি আজ পুরোপুরিই নিঃস্ব।

এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান অবস্থায় যেকোন মূল্যে বাজারকে স্থিতিশীল করা জরুরি। কেননা বার বার যদি বিনিয়োগকারীরা বাজারে প্রবেশ করে অর্থ হারিয়ে প্রতারিত হন তাহলে কোন এক সময় কেউ এ ব্যবসায় আগ্রহ প্রকাশ করবেন না।