উপার্জন ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়

0
37

woman-1পর্যাপ্ত উপার্জন ব্যবস্থা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব নয়। তাদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়াতে আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়িয়ে উপার্জনের ব্যবস্থা করতে হবে।

নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক বেস্টনীর গতিপ্রকৃতি ও সীমাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করে আগামি বাজেটে সে অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও দেশের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের নারীদের জন্য প্রচলিত বাজেট আনুপাতিকভাবে ন্যায়সঙ্গত নয়। এছাড়া তাদের আর্থ-সামাজিক ও আঞ্চলিক পশ্চাৎপদতা, নানামুখী প্রতিকূলতা ও সংকট এবং নারীর প্রত্যাশা ও চাহিদা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেন বক্তারা।

সেমিনারের আলোচক ও প্রদীপ প্রকল্পের সমন্বয়ক দিলরুবা ইয়াসমিন চৌধুরী বলেন, “জন্মলগ্ন থেকেই মেয়ে শিশু পারিবারিকভাবে বৈষম্যের স্বীকার হয়। পরিবারে মেয়ের আগে ছেলের চাহিদা পূরণ করতেই বাবা মা সবসময় ব্যস্ত থাকেন”। তবে এক্ষেত্রে দারিদ্র্যকে দায়ি করেন তিনি।

সেমিনারে গত দুই দশকে নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অগ্রগতির পাশাপাশি নানান সমস্যার কথা তুলে ধরেন আলোচকরা।

মূল প্রবন্ধে খন্দকার ইবরাহিম খালেদ শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। সে অনুসারে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ২০১০ সালের পর থেকে শ্রমশক্তির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রশংসনীয় ভূমিকা উপস্থাপন করেন ইবরাহিম খালেদ।

তবে উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা নারী ইস্যুতে অগ্রগতির নানা অবস্থা তুলে ধরেন।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মোসলেম উদ্দিন বলেন, “বিভিন্ন এলাকায় অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে শিশুদের বিবাহযোগ্য সনদ তৈরি করে বিয়ে দেয়া হয়। এক্ষেত্র তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়রদের দায়ি করেন”।

একই সাথে কওমী মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা বন্ধ না করে সেখানে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করার কথা বলেন তিনি।

আবদাল হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দিতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকে মহিলাদের প্যারামেডিক্যাল প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলেন সিরাজগঞ্জের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক নুপুর রাণী রায়।

এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন ও বাজেট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বক্তারা বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে নারীর স্বাস্থ্য উন্নয়ন, ক্ষমতায়নের জন্য উপার্জন ব্যবস্থা সৃষ্টি, নারীর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতি দেওয়া, সর্বস্তরে উপবৃত্তি চালু করা প্রভৃতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন প্রদীপ প্রকল্পের টিম লিডার ড. মাহফুজ কবির, কর্মজীবী নারীর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার, কর্মজীবী নারীর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রতীমা পাল মজুমদার প্রমুখ।

এসএসআর