দুইদিন পরেও সন্ধান মেলেনি মালয়েশীয় বিমানের

0
39

search-airঅনুসন্ধানের ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি মালয়েশীয়ান এয়ারলাইন্সের হারিয়ে যাওয়া বিমানটি। সর্বশেষ ভিয়েতনামের  নৌবাহিনী কর্মকর্তারা জানিয়েছিল, দক্ষিণ চীন সাগরের ভিয়েতনাম উপকূলে  বিধ্বস্ত বিমানের বিচূর্ণ অংশ থাকার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।

কিন্তু সে আশাও ফিঁকে হয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ফলে এখনো চলছে হারানো বিমান নিয়ে নানা রহস্যের জাল। খবর ভয়েস অব আমেরিকা, বিবিসি ও সিএনএনের।

বিমানটি চীনের উদ্দেশ্যে শনিবার স্থানীয় সময় ২টা ৪০ মিনিটে কুয়ালালামপুর থেকে ছেড়ে যায়। কিন্ত ১০টা ৩০ মিনিটে এটি বেইজিং-এ পৌঁছানোর কথা থাকলেও  পৌঁছায়নি। ভিয়েতনামী সরকারের ওয়েবসাইটে জানানো হয়, দক্ষিণ ভিয়েতনামের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটির রাডার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

রোববার ভিয়েতনামের নৌবাহিনীর কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সেদেশের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, দক্ষিণ চীন সাগরের ভিয়েতনাম উপকূলে মালয়েশীয় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হতে পারে। কিন্তু ভিয়েতনামের এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে  মালয়েশিয়ার সরকার। তারা বলছেন কোনো ধরনের হতাহত কিংবা বিধ্বস্তের খবর আমাদের কাছে নেই। রোববার ভিয়েতনামের অ্যাডমিরাল নগো ভান পাতকে বলেন, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের বিমানটি মালয়েশিয়ার সমুদ্র সীমার ভেতরে বিধ্বস্ত ‘হতে পারে’।

কিন্তু  মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী সেরি হিশাম উদ্দিন বলেছেন, এখন পর্যন্ত তাদের কাছে নিখোঁজ হওয়া বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। বিধ্বস্ত হওয়ার গুজবকে বিশ্বাস না করার কথাও বলেন হিশাম। তিনি বলেন, আমাদের ক্ষমতার মধ্যে থেকে আমরা বিমানটির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।

বিধ্বস্তের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিমান উদ্ধার কাজে দক্ষিণ চীন সাগরে দুটি জাহাজ পাঠায় চীন। ভিয়েতনামের নৌবাহিনীকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে।malaysia-plane

হারানোর দ্বিতীয় দিনে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মালয়েশিয়ান এভিয়েশনের এক মুখপাত্র আজহারুদ্দীন জানান, মালয়েশিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোসহ অনুসন্ধান এলাকা বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, বোয়িং-৭৭৭ বিমানটিতে যাত্রীদের তালিকায় ৫ জন আরোহীর নাম ছিল। কিন্তু তারা বিমানে ওঠেননি। তাদের ল্যাগেজও সরানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে উদ্ধারকর্মীদের দায়িত্বে থাকা প্রধান জেনারেল জুলকেফি জানান, উদ্ধারকাজে মোট ২২ টি বিমানসহ ৪০ টি জাহাজ অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

মালয়েশিয়ান একজন সামরিক কর্মকর্তা জানান, বিমানটি আবার কুয়ালালামপুরে ফিরে আসার সম্ভাবনা ইতিবাচক। তিনি আরও জানান, বিমানটি যে পথে পাড়ি দিয়েছিল সেই রাডার পথে অনুসন্ধান কাজ জোরদার করা হয়েছে। ফলে এটি আবার ফিরে আসবে বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে চীনের সি-১৩০ উদ্ধারকর্মীদের সাথে ভিয়েতনামের একজন কর্মকর্তা জানান, ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে শুধু তেলের স্লিক অংশ ভিয়েতনাম সাগরের পানির ওপর ভেসে থাকতে দেখা গেছে।  যা থেকে  বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেছিলেন, হতভাগ্য বোয়িং-৭৭৭ চীন সাগরে ডুবে গিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানটিতে যাত্রীদের তালিকায় এমন দু’জন আরোহীর নাম আছে যাদের একজন ইতালীয় এবং অন্যজন অস্ট্রিয়ার নাগরিক। তারা ওই ফ্লাইটটিতে ছিলেন না। তাদের পাসপোর্ট দু’টো থাইল্যান্ড থেকে চুরি গেছে বলে জানায় এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। ফলে বিমান নিখোঁজ হবার ঘটনাটি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কি-না সে ব্যাপারে সন্দেহ করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের জানায়, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই অভিযান চালাচ্ছে তারা। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিধ্বস্ত বিমানের কোন ‘চিহ্ন’ খুঁজে পাওয়া যায়নি।  ৫ জন শিশুসহ ২২৭ জন যাত্রী, এবং ১২ জন ক্রু নিয়ে বিমানটি যাত্রা শুরু করেছিল।

এস রহমান/