হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাচনে দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

0
92
Jhenidah

Jhenidahবাউল সম্রাট লালন শাহ’র পূণ্য ভূমি ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রার্থী ও তার সমর্থখদের আনাগোনা।

শহর, বাজার ও গ্রামের চায়ের দোকানগুলোতে চলছে নির্বাচনী আড্ডা ও চা বিক্রির হিড়িক। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোটাররা যেন মুখিয়ে আছেন। হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাচনে একক প্রার্থী দিতে শুরু থেকেই বিএনপি, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের বেগ পেতে হয়।

পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি ফয়সালা হয়। অন্যদিকে, মতবিরোধের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগও একক প্রার্থী দিতে পারলেও বিরাগ ভাজন হয়েছে দলের পরীক্ষিত কিছু নেতা। এরমধ্যে রয়েছেন আফজাল হোসেন ও সাজেদুর রহমান টানু মল্লিকসহ অনেকেই। মূলত তারাই স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ও নেতা-কর্মীদের ভাল মন্দের দেখভাল করেন। কিন্তু তাদের কেউ প্রার্থী না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে হতাশা বিরাজ করছে।

তাদের ভাষ্যমতে, ১৯ দলীয় প্রার্থী বিএনপি নেতা এম এ মজিদের সাঙ্গে লড়াই করার জন্য হরিনাকুন্ডু আওয়ামী লীগের যোগ্য প্রার্থীর অভাব ছিল না। কিন্তু একক প্রার্থী হিসেবে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি ব্যক্তি ইমেজে কতটকু সফল হবেন এটাই দেখার বিষয়। তারপরও দলীয় সমর্থনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হরিনাকুন্ডুর ভায়না ইউনিয়নের কৃতি সন্তান রবিউল ইসলাম শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলা পরিষদের নির্বাচন চতুর্থ দফায় আগামী ২৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে তিনজন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে তিনজন প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। এরা হলেন চেয়ারম্যান পদে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী মটরসাইকেল প্রতিক নিয়ে বিএনপি নেতা এড, এম এ মজিদ, আওয়ামী লীগের মো. রবিউল ইসলাম আনারস প্রতিক রিয়ে ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মো. আকরাম হোসেন দোয়াত কলম নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। ভাইস চেয়ারম্যানের পুরুষ পদে চশমা প্রতিক নিয়ে মো. শহিদুল ইসলাম শিলু (আ’লীগ), উড়োজাহাজ প্রতিক নিয়ে মো. আমিরুজ্জামান চৌধুরী পলাশ (আ.লীগ বিদ্রোহী), তালা প্রতিক নিয়ে মো. আবুল হাসান মাষ্টার (বিএনপি) ও  জামায়াতের মো. রেজাউল ইসলাম টিউবওয়েল প্রতিক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিএনপি সমর্থিত সেলিনা খাতুন কলস প্রতীক, আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাহমুদা আক্তার কেয়া ফুটবল প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোছাঃ নাছিমা আক্তার মায়া হাঁস প্রতীক নিয়ে প্রচারনায় নেমেছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীরা পুরোদমে শুরু করেছেন প্রচারণা। ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্চলে বেশি। পাড়া-মহল্লায়, হাট-বাজার ও সড়কের মোড়ের চা স্টলগুলো নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগ হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাচনে বিজয় পেতে সর্বশক্তি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয়ভাবে তারাই জয় পাবে এমন ধারণা পোষন করছে। অন্যদিকে চরম নির্যাতন ও পুলিশ অভিযানে ছিন্নভিন্ন হরিনাকুন্ডুর জনপদ জামায়াত বিএনপির শক্তিশালী ঘাটি। দল দুইটি একতাবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন। তাছাড়াও তাদের প্রার্থীও শক্তিশালী ও ভোটারদের কাছে পরিচিত। বিপুল ভোটে কয়েকবার হরিনাকুন্ডুর চাঁদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থী এম এম মজিদ।

ফলে গত নির্বাচনে আওয়ামীলীগের শক্তিশালী প্রার্থীকে পরাজিত করে জামায়াত প্রার্থী মোতাহার হুসাইন বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ বছর প্রেক্ষাপট আরও বিএনপি জামায়াতের অনুকূলে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হলে ১৯ দলীয় জোটের প্রার্থীর জয় সুনিশ্চত বলে মনে করেন জেলা বিএনপির সাধারণ-সম্পাদক আব্দুল মালেক।