টি প্লাস টু নিয়ে বিদেশিদের সাথে বসবে ডিএসই

0
77
dse brocker
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবন

dse t+2 settlment cycleলেনদেন নিষ্পত্তিতে টি প্লাস টু স্যাটলমেন্ট সিস্টেম চালুর জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনোনীত ব্রোকার ও কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে ঢাকা স্টক এক্সেচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মাধ্যমে নতুন পদ্ধতি চালুতে বিদেশি বিনিয়োগে সম্ভাব্য সমস্যা পর্যালোচনা এবং তা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা হবে। চলতি সপ্তাহেই হতে পারে এ বৈঠক। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, নানা কারণে দীর্ঘ বিলম্বের পর গত সপ্তাহে টি প্লাস টু চালুর সব প্রস্তুতি শেষ করে ডিএসই। গত ৫ মার্চ প্রকাশিত হয় লেনদেন নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিধিমালা স্যাটলমেন্ট অফ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ট্রানজেকশন রেগুলেশন-১৯৯৮ এর সংশোধনীর প্রজ্ঞাপন। এ প্রজ্ঞাপন জারীর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে টি প্লাস টু চালুর কথা ছিল। কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাস্টোডিয়ান ব্যাংকের আপত্তির কারণে শেষ মুহূর্তে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বিদেশি বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে টি প্লাস টু চালুতে তাদের আপত্তির কথা জানায়। তাদের মতে,টি প্লাস থ্রি’র পরিবর্তে টি প্লাস টু চালু করা হলে তারা কিছু সমস্যায় পড়তে পারেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি ডিএসইকে বিষয়টি পর্যালোচনা এবং সম্ভাব্য সমস্যার সমাধানের পর টি প্লাস চালুর নির্দেশ দেয়। এর প্রেক্ষিতে চলতি মাসে নতুন পদ্ধতি চালু প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

বিএসইসির নির্দেশনার আলোকে ডিএসই কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডিএসইর ব্যাবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা অর্থসূচককে বলেন, ‌টি প্লাস টু চালুর ব্যাপারে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাস্টোডিয়ান ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) কিছু সমস্যার কথা বলেছে। এর পর বিএসইসি বিষয়টি আমাদেরকে জানিয়েছে। তাই টি প্লাস টু চালুর ব্যাপারে বিদেশিদের সাথে আলোচনায় বসবে ডিএসই। ও পদ্ধতিতে কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করা হবে। আর চলতি সপ্তাহেই হতে পারে এ বৈঠক।

উল্লেখ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে দুই বছর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) টি প্লাস টু চালুর অনুমতি দেয়। এর প্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ নভেম্বর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এই পদ্ধতি চালু  করে। কিন্তু ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কয়েক দফা সম্ভাব্য সময়সূচি ঠিক করেও তা চালু করতে পারেনি।

ডিএসইতে টি প্লাস টু চালুর ক্ষেত্র সর্বশেষ বাধা ছিল তাদের স্যাটলমেন্ট বিধিমালা। গত সপ্তাহে ওই বিধিমালা (স্যাটলমেন্ট অফ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ট্রান্সজেকশন রেগুলেশন-১৯৯৮) সংশোধনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। আর এর মধ্যদিয়ে নতুন পদ্ধতি চালুর সর্বশেষ বাধাটিও দুর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু এরপর নতুন বাধা হিসেবে বিদেশীদের আপত্তি এসে হাজির হয়েছে।

বর্তমানে ডিএসইতে এ,বি ও এন ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের নিষ্পত্তি হয় টি প্লাস থ্রি সাইকেলে। এ পদ্ধতিতে শেয়ার কেনার চতুর্থ দিনে গ্রাহক তার হিসাবে শেয়ার বুঝে পান। সেদিনই ওই শেয়ার বিক্রির উপযোগী হয়। বিনিয়োগকারী চাইলেই তা বিক্রি করতে পারেন। অন্যদিকে শেয়ার বিক্রির বেলায় চতুর্থ দিনে টাকা বুঝে পান বিনিয়োগকারী। টি প্লাস টু চালু হলে লেনদেন নিষ্পত্তির সময় একদিন কমে আসবে। ফলে চতুর্থ দিনের পরিবর্তে তৃতীয় দিনে শেয়ার বা টাকা বুঝে পাওয়া যাবে।