স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ করতে হবে: ড. আনিসুজ্জামান

0
64
Anisujjaman

Anisujjamanমুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাংলাদেশে স্বাধীনতার স্ব-পক্ষের শক্তিকে টিকিয়ে রাখার জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির সাথে সম্মুখ যুদ্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান।

রোববার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ বিরোধী জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, আমাদের দোদুল্যমনতার কারণে স্বাধীনতার চেতনাকে আমরা ফিরিয়ে আনতে পারছি না। ৭১’র পরাজিতরা ধর্মকে আলিঙ্গন করে মুক্তিযদ্ধের পক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এদের মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সেক্টর কমান্ডার ফেরাম সংগঠনের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, বাংলাদেশ টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম. হামিদ, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, সংগঠনের সহ-সভাপতি লে. কর্ণেল আবু ওসমান চৌধূরী, সি আর দত্ত, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ-সম্পাদক রাখি দাস প্রকাস্ত, মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিব প্রমুখ।

এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিরা নতুন করে সংঘবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক ভিত্তি ও বাঙালির হাজার বছরের অর্জিত সংস্কৃতি বিনষ্ট করতে চাইছে। একই সাথে তারা গণতন্ত্র বিরোধী জঙ্গি কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে।

তিনি সরকারের কাছে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং এর আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি করার আহ্বান জানান।

শাহরিয়ার কবির বলেন, একাত্তরে আমরা মুক্তিযুদ্ধের সব অস্ত্র জমা দিয়েছিলাম। তখন বলা হয়েছিল প্রয়োজন হলে আবার অস্ত্র দেওয়া হবে। তাহলে আজকে আমাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া হোক। আমরা এই জঙ্গি সংগঠনকে বাংলার মাটি থেকে নির্মূল করে ছাড়বো।

মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ বলেন, শাখা-প্রশাখা কেটে লাভ নেই আগে মূল ধরতে হবে। জামায়াত-শিবিরের মূল যে জায়গাগুলো সেই জায়গায় হাত দিতে হবে। শুধু তাদের নিষিদ্ধ করলেই হবে না তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রকাশনাগুলোকেও নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দ্বি-জাতি তত্ত্বের মধ্যেই ছিল সাম্প্রদায়িকতার বীজ। এখান থেকেই সাম্প্রদায়িকতার চেতনার বিকাশ ঘটেছে।

এএইচ