পঞ্চম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো শ্রীলঙ্কা

0
72

pakistan_vs_srilanka_টুর্নামেন্টে শতভাগ জয়ের ধারা বজায় রেখে ১২তম এশিয়া কাপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে পঞ্চম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হলো শ্রীলঙ্কা। আর এই জয়ের রুপকার উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লাহিরু থিরিমান্নে এবং অভিজ্ঞ তারকা মাহেলা জয়বর্ধনে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

পাকিস্তান ৫০ ওভার ২৬০/৫ (ফাওয়াদ অপরাজিত ১১৪, মিসবাহ ৬৫, মালিঙ্গা ৫/৫৬)
শ্রীলঙ্কা ৪৬.২ ওভার ২৬১/৫ (থিরিমান্নে ১০১, জয়বর্ধনে ৭৫,আজমল ৩/২৬)

শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত খেলায় তারা অনেকটা হেসে-খেলেই ২২ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। ৫৬ রানের মাথায় কুশাল পেরেরা ও কুমার সাঙ্গাকারা আজমলের বলে পর পর ফিরে গেলে কিছুটা হলেও চাপের মুখে পড়ে লঙ্কানরা। কিন্তু পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে সেই চাপ কাটিয়ে উঠার পাশাপাশি দলকে একেবারেই জয়ের নাগালে নিয়ে যান এই দুই থিরিমান্নে ও জয়াবর্ধনে। তৃতীয় উইকেট জুটিতে এ দুজন ২৭ ওভার পাক আক্রমণ সামাল দিয়ে ১৫৬ রানের অসাধারণ জুটি গড়ে ম্যাচ থেকে পাকিস্তানকে ছিটকে দেন।

লাহিরু থিরিমান্নে অসাধারণ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যাট করে টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় শতকটি পূর্ণ করেন। অবশ্য খেলার অন্তিম পর্যায়ে ১০৮ বল থেকে ১৩ চারে ১০১ রান করে সাঈদ আজমলের তৃতীয় শিকারে পরিনত হন এ বাঁহাতি ওপেনার। এর আগে আশান প্রিয়ঞ্জন ১৩ রান করে জুনায়েদ খানের শিকার হন। মাহেলা জয়বর্ধনে ৯৩ বলে ৯ চার ও ১ ছক্কায় ৭৫ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে মোহাম্মদ তালহার শিকার হন। বেশ কিছুদিন যাবৎ রানখরায় থাকা জয়বর্ধনে ১৩ ইনিংস পর প্রথম ফিফটির দেখা পান।

এর আগে তারকা অফস্পিনার সাঈদ আজমল আক্রমণে এসেই পাল্টে দেন খেলার গতিধারা। ১১তম ওভারের প্রথম দুই বলেই চমৎকার খেলতে থাকা কুশাল পেরেরা এবং ইনফর্ম কুমার সাঙ্গাকারাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ করে দেন।ওভারের প্রথম বলে ৩৭ বলে ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ রান করা কুশল পেরেরাকে উইকেটরক্ষক উমর আকমলের সহযোগিতায় স্টাম্পড করেন আজমল। পরের বলেই কুমার সাঙ্গাকারাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন তিনি। এ সময় শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১০.২ ওভারে ২ উইকেটে ৫৬ রান।

ইনিংসের শুরুতে ১২তম এশিয়া কাপ জয়ের জন্য ২৬১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে টুর্নামেন্টের একমাত্র অপরাজিত দল শ্রীলঙ্কা প্রথম ১০ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৬ রান তুলে চমৎকার জবাবের ইঙ্গিত দেয়।

এর আগে ফাওয়াদ আলমের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতকে ১২তম এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার সামনে ২৬১ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দাঁড় করায় পাকিস্তান। তবে মাত্র ১৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ও শেষ প্রান্তে উমর আকমলের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬০ রান করে পাকিস্তান।

লাসিথ মালিঙ্গা পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও ৫ উইকেট শিকার করলেও অন্য প্রান্ত থেকে উপযুক্ত সমর্থন পাননি। ফলে প্রথম ৩ ওভারে ৩ উইকেট নেয়া মালিঙ্গা শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৫৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার পক্ষে একমাত্র সফল বোলার হিসেবে চিহ্নিত হন। এই কৃতিত্ব তাকে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়েরও পুরষ্কার পাইয়ে দেয়।

ফাওয়াদ ১৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে আসেন। এরপর অসাধারণ লড়াকু ব্যাটিং করে দলকে উদ্ধার করেন এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এ পথেই তিনি ১২৬ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় শতক পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১৩৪ বলে ৮ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ১১৪ রান তুলে অপরাজিত থাকেন। উমর আকমল ইনিংসের ২ বল বাকী থাকতেই ৪২ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৫৯ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে মালিঙ্গার শিকারে পরিনত হন। পঞ্চম উইকেট জুটিতে এ দুজন ১৩ ওভার ব্যাটিং করে ১১৫ রান যোগ করেন। একই সঙ্গে বড় লক্ষ্যও অর্জিত হয় পাকিস্তানের।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মালিঙ্গার করা প্রথম ওভারেই ওপেনার শারজিল খানের উইকেট হারায় পাকিস্তান। প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলে দলীয় ৮ রানে থিসারা পেরেরার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। আট রান করে আউট হন তিনি। এরপর নিজস্ব দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কার এই বর্ণময় ফাস্ট বোলার তৃতীয় ওভারের শেষ বলে ইনফর্ম ওপেনার আহমেদ শেহজাদকে উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারাকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। এ সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১৭ রান। এরপর দলীয় ৪.৩ ওভারে ১৮ রানের মাথায় মালিঙ্গা  মোহাম্মদ হাফিজকে উইকেটরক্ষক কুমার সাঙ্গাকারার গ্লাভসবন্দী হতে বাধ্য করেন মাত্র ৩ রানে। এ সময় পাকিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৮।  এরপর ১২২ রানের বিপজ্জনক হয়ে ওঠা জুটি ভাঙ্গেন আবারও লাসিথ মালিঙ্গা। অধিনায়ক মিসবাহ উল হক ৯৮ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ৬৫ রান করে মালিঙ্গার চতুর্থ শিকার হিসেবে কুশাল পেরেরার তালুবন্দী হন। দলীয় সংগ্রহ তখন ছিল ৩৬.৪ ওভারে ৪ উইকেটে ১৪০ রান। এরপর উমর আকমল জুটি গড়লেও শেষ উইকেটটিও তুলে নেন এই মালিঙ্গা।