‘আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে প্যাকেজিং শিল্প’

0
26

gaments-accsesoryদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য দরকারি অনেক জিনিসপত্রের আমদানি আগের তুলনায় অনেক কমেছে বলে জানিয়েছেন শিল্প মন্ত্রী আমির হোসেন আমু।তার মতে, দেশে প্যাকেজিং শিল্প ও তৈরি পোশাকের অন্যান্য এক্সেসরিজ কারখানা গড়ে ওঠায় আমদানি নির্ভরতা কমেছে।

রোববার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে চারদিন ব্যাপি চলা ‘বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পখাত: প্রবৃদ্ধি, সামাজিক বাধ্যবাধকতা ও পরিবেশ ইস্যু’ বিষয়ক সেমিনারের সমাপনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী এসময় তার বক্তব্যে বলেন, এক সময় আমাদের পোশাক খাতের জন্য দরকারি সব কিছুই আমদানি করতে হতো। কিন্তু এখন সে ধারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন তুলা বা সুতা ছাড়া তেমন কিছুই আমদানি করতে হয় না। তার মতে এ কারণেই খাতটিতে আমদানি নির্ভরতা কমেছে।

সেমিনারে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আহমেদ, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)-এর সন্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম.এম আকাশ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্ট্যান্ডিং কমিটি অন রিসার্স, ট্রেনিং, সেমিনার অ্যান্ড সিম্পোজিয়াম-এর চেয়ারম্যান ড. মুকবুল আহমেদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএপিএমইএ-এর প্রেসিডেন্ট রাফেজ আলম চৌধুরী।

শিল্প মন্ত্রী এ সময় পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য শিল্প কারখানার শ্রমিকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মজুরি কাঠামো যথাযথভাবে পালনের জন্য মালিকদের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, শ্রম অসন্তোষ হলে শিল্পের বিকাশ বাঁধাগ্রস্থ হয়। এ জন্য যেসব কারণে শ্রমিক অসন্তোষ হয় সেদিকে মালিকদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

মন্ত্রী এসময় পোশাক কারখানা মালিকদের প্রতি যথাসময়ে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা দিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানান। প্যাকেজিং ও অন্যান্য এক্সেসরিজ শিল্পের বিকাশের জন্য সরকার সব ধরণের সহায়তা করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ গার্মেন্টস শিল্প বিকাশের পেছনে ব্যাকওয়াট লিংকেজ হিসেবে যেসব শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এর মধ্যে গার্মেন্টস এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্প অন্যতম। এ শিল্প খাতের দ্রুত বিকাশ ঘটায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আমাদের উদ্যোক্তাদের লিড টাইম কমে আসছে। ফলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প সুসংহত হচ্ছে। বর্তমানে এ শিল্প খাত দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পণ্য রপ্তানি করছে। এ শিল্পখাত বর্তমানে ৪ দশমিক ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধা পেলে এ খাত আগামি ২০১৮ সালের মধ্যে ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন। এ জন্য এ খাতের বিকাশে সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেবপ্রিয় ভট্টচার্য বলেন, যে কোনো শিল্পের বিকাশের জন্য চারটি মৌলিক জিনিস রয়েছে। সেগুলো হলো বিদ্যুৎ, গ্যাস, নিস্কন্টক জমি ও ভাল যোগযোগ ব্যবস্থা। শিল্পের বিকাশের জন্য সরকারকে এ মৌলিক দিকগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে। আর কারখানার এসব মৌলিক চাহিদার অভাবে সেখানে কমপ্লাইন করা সম্ভব হয় না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, কারখানার পরিবেশ মান ও সামাজিক মান অবম্যই আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। সেব প্রতিষ্ঠান এখনও এদিকটির দিকে নজর দিচ্ছে না তাদের কাছ থেকে একসময় আন্তর্জাতিক সংস্তাগুরো মুখ ফিরিয়ে নেবে বলে তিনি মনে করেন।

পোশাক খাত এখন যে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এ থেকে উত্তোরণ পেতে এর সাথে সংশ্রিষ্ট সব কারকানাগুলোকো একত্রিত করে সামনে এগিয়ে ডেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হলে আমাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের পোশাক শিল্প কারকানা গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা করেন।

এম.এম আকাশ এ শিল্পের বিকাশের জন্য কিছু দিকনির্দেশনা তুলে ধরে মালিকদের উদ্দেম্যে বলেন, এ শিল্প থেকে আপনার যে উদ্বৃত্ত অর্জন করবেন তা দেশেই ব্যয় করতে হবে, ঋণ কেলাপির দিকে যাবেন না, শ্রমিকদের শোষন করবেন না, ট্রেড ইউনিয়নকে কোন ভয় পাবেন না। তাদের জন্য নির্ধারতি ৫ শতাংশ লাভের অংশ বরাদ্দ রাখবেন। পাশাপশি মালিকদের অতি বিলাসী জীবন যাপন না করারও পরামর্শ দেন তিনি।

এসএই/