সেবার নামে অর্থআত্মসাৎ, অনুসন্ধানে নামছে দুদক

0
68
dudok_ACC
দুদক কার্যালয়। ছবি- সংগৃহীত

dudok_ACCসেবার নামে সদস্যদের সাড়ে তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান এহসান সোসাইটির ২৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সংস্থাটির বিভিন্ন শাখার এ কর্মকর্তারা ক্যাশ তছরুপ, ভুয়া ঋণ ও ভুয়া পেমেন্ট দেখিয়ে এ অর্থ আত্মসাৎ করেন। অভিযোগটি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের জন্য যাচাই-বাছাই শাখায় পাঠিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)।

দুদক সূত্র জানায়, ২০০১ সালে মাগুরাতে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে এহ্সান সোসাইটি । মূলনীতি ছিলো অপচয়, নেশা, আলস্য, পরনিন্দা ও অহংকার না করা এবং তেলাওয়াত, তালিম, দাওয়াত, জিকির ও খেদমত করা। সদস্যদের প্রতিদিনের হাত খরচের ৫/১০ টাকায় সংগঠনটি তিলে তিলে বড় হতে থাকে। সংগঠনের অধিকাংশ কর্মী নিজ নিজ এলাকার। একটি অরাজনৈতিক সংগঠন হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত বড় হতে থাকে এবং অল্প সময়েই সারাদেশে ১৯৪টি শাখা প্রতিষ্ঠা করে।

দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়,  সংগঠনের মাঠ পর্যায়ের কিছু কর্মী দুর্নীতি শুরু করে। যা সংস্থার অডিট রিপোর্ট ও পরিদর্শন রিপোর্টে উঠে আসে। সংস্থার মোট ১৯৪টি শাখার মধ্যে ২০টি শাখায় ব্যবস্থাপক/সমন্বয়কারী/এফ.ও.  (মাঠ সংগঠক) দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেরা বিত্তবান হয়েছেন । এর মধ্যে শেরপুর ও যশোর শাখায় দুর্নীতি পরায়ন কর্মকর্তারা অফিসের ভাউচার/লেজার/অডিট রিপোর্ট এবং অন্যান্য প্রামান্য দলিলপত্র গায়েব করে। কিন্তু অভিযুক্তরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় থানায় মামলা করাও যাচ্ছে না।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ অডিট ও নিরীক্ষা রিপোর্টে তাদের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। তাদের বেতনের সঙ্গে জীবনযাত্রার মান ও সম্পদের পরিমাণে অসামঞ্জস্যতা ধরা পড়ে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও আত্মসাৎকৃত টাকা পরিমাণ হলো- খুলনা সদরে কর্মরত এফডিও মো. হাফিজুর রহমান ৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, শরীয়তপুরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা শেখ মাসুদুজ্জামান ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮২ টাকা, সাবেক ব্যবস্থাপক আসাবুল হক ৪ লাখ ১২ হাজার ১৯৭ টাকা, ঝিনাইদহ সদরের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৭৭ টাকা, সমন্বয়কারী মাওলানা আব্দুল হালিম ৩২ লাখ ২১ হাজার ২১২ টাকা, হাট গোপালপুরের সাবেক ব্যবস্থাপক মো. রেহবার হোসেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪০ টাকা, মহেশপুরের ব্যবস্থাপক আব্দুল কুদ্দুস ১৫ লাখ ৫৭ হাজার টাকা, হাটগোপালপুরের সাবেক ব্যবস্থাপক মো. সুলতান মাহমুদ ১ লাখ ৯ হাজার ৪২৫ টাকা, কেশবপুরের সাবেক ব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান ৭ লাখ টাকা, ঢাকার সুত্রাপুরের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. ইমন হোসেন ১৭ লাখ ৫৭ টাকা, মাগুরার সাবেক এজিএম সেলিম হোসেন ৪২ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৮ টাকা, মাগুরা সদরের ব্যবস্থাপক মো. মোস্তাক আহম্মেদ ৪ লাখ ২১ হাজার ৫৬৯ টাকা, শ্রীপুর মাগুরার স্টোরকিপার মো. ফরহাদ হোসেন ৯ লাখ ২৭ হাজার ৯৮৩ টাকা, সাবেক সমন্বয়কারী লিয়াকত আলী ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯১৮ টাকা, মাগুরার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুল খালেক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, রংপুর সদরের সমন্বয়কারী হাফেজ নাজমুল হক ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১১ টাকা, তাড়াইলের সাবেক ব্যবস্থাপক মাসুদুল হক ৫ লাখ ৩২ হাজার ৩৭১ টাকা, তেরখাদার ব্যবস্থাপক আতাউর রহমান কাজী ১৮ লাখ ৩১ হাজার ৬০৩ টাকা, চুয়াডাঙা জোনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ৬ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, সাবেক সমন্বয়কারী মাওলানা জাহিদ হাসান ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৫১২ টাকা, কুতুবদিয়ার সমন্বয়কারী মো. ইনামুল হক কুতুবী ৬ লাখ টাকা, নড়াইলের সমন্বয়কারী মাওলানা আজমল হোসেন ১৩ লাখ টাকা, জেলা সমন্বয়কারী মাওলানা তৈয়েবুর রহমান ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৩৫৪ টাকা, কুতুবদিয়ার ব্যবস্থাপক ওসমান গণি ২৫ লাখ টাকা, মাকছেদপুরের সমন্বয়কারী ৪৫ লাখ টাকা ও ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামান ৪৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।