অবশেষে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আসছে পথশিশুরা

0
42
প:;থশিশু
পথ শিশু (ফাইল ছবি)

প:;থশিশুপথশিশুদের ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেষ্টার শেষ নেই। বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আইনি জটিলতায় আটকে যায় পথশিশুদের ব্যাংকিং সেবা পাওয়ার অধিকার। শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যাংকিং সেবায় আনার সব ধরণের বাঁধা কাটিয়ে উঠেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়োজনে ‘স্কুল ব্যাংকিং কনফারেন্স’ অনুষ্ঠানে পথশিশুদের আশার বাণী শুনালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

শিগরীরই পথ শিশুদের জন্য ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কয়েকদিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও তিনি এসময় ঘোষণা দেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকরাই ব্যাংকের যাবতীয় নিয়মকানুন পরিপালন করে থাকে। শিশু ১৮ বছর পার করলেই সে ওই হিসাবের মালিকানা লাভ করে। যেমনটি স্কুল ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কিন্তু পথশিশুদের অভিভাবক সংকটে এ নিয়ম কাজে আসছিল না।

মূলত পথশিশুদের ব্যাংকিংয়ে অন্তর্ভূক্ত করতে গেলে হয় তাদের অভিভাবক খুঁজে বের করতে হবে না হয় আদালত যাকে নোমেনি করবে তার মাধ্যমেই হিসাব খুলতে হবে। কিন্তু এটা খুবই কঠিন ও জটিল কাজ। এ কারণে খুব সহজে এবং ঝামেলামুক্তভাবে পথশিশুদের যাতে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা যায় তার পথ খুঁজছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা অর্থসূচককে জানান, পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু করা হবে কর্মজীবি শিশু ব্যাংকিং। ছিন্নমূল কর্মজীবি পথশিশুদের এ ব্যাংকিং সেবায় প্রাথমিকভাবে এগিয়ে এসেছে রূপালী ও পূবালী ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংক দুটিকে সার্বিক সহযোগিতা করছে ‘সেভ দ্যা চিলড্রেন’ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’।

তিনি আরও জানান, গত বছরের ৭ জুলাই রূপালী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা এবং পূবালী ব্যাংকের মিরপুর শাখায় প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্পটি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু পথশিশুদের বয়স ও অভিভাবকত্ত্ব আইনে আটকে যায় তাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম। ছিন্নমূল শিশুদের জন্য ‘স্বপ্নপূরণ ব্যাংকিং’ শিরেনামে এ কার্যক্রম সব ধরণের জটিলতা কাটিয়ে আবার শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান অর্থসূচককে বলেন, পথশিশুদের যেহেতু অভিভাবক নেই তাই ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে আসতে হবে। কিন্তু এ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। তাছাড়া আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের সব পথশিশুদের ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনা। সেক্ষেত্রে বারবার আদালতে যাওয়া অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তাছাড়া এ প্রক্রিয়ায় অন্যান্য ব্যাংক পথশিশুদের ব্যাংকিং সেবা দিতে আগ্রহী হবে না। তাই আমারা চেষ্টা করছিলাম যে প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য কাজ করছে সে প্রতিষ্ঠানকে শিশুদের নোমিনি করার। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বদল হলেও তাদের কার্যক্রম যেন চালিয়ে নেওয়া যায় সেদিকেও আমাদের লক্ষ্য ছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, অবশেষে আমরা পথশিশুদের ব্যাংকিং সেবা দিতে সব ধরণের আইনি বাঁধা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যেই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ কার্যক্রম চালু করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, ছিন্নমূল কর্মজীবি শিশুরা মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে পারবে। এসব হিসাবে তারা বিভিন্ন মেয়াদে সর্বোচ্চ লভ্যাংশে টাকা জমা রাখতে পারবে।এর জন্য তাদের কোনো সার্ভিস চার্জ দিতে হবে না। জমাকারী প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জেনে সে অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ জমা করে তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করা হবে।

এসএই/