রাজশাহীর চরাঞ্চলে কুল চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা

0
133

kul_boroiরাজশাহীর বাঘা উপজেলার গড়গড়ি, পাকুড়িয়া ও মনিগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার ২শ ৮৬ হেক্টর জমি পদ্মার চরের অর্ন্তভূক্ত। রোদ আর বালুর কারনে বছরের পর বছর ধরে অনাবাদি ছিল চরের হাজার হাজার বিঘা জমি। বর্তমানে পদ্মার এই চরে পেঁয়াজ, রসুন, মসুর, গম, সরিষা, আখ ও শাকসব্জি চাষের পাশাপাশি কুল (বরই) চাষ এনে দিয়েছে নতুন বিপ্লব।

কুল চাষে আত্ননিয়োগ করেছে এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরা। পতিত জমিতে কুল চাষ করে একদিকে নিজেরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হচ্ছেন অন্যদিকে পুষ্টির ঘাটতি পূরণসহ জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখছেন। কম খরচে বেশী লাভ হওয়ার কারনে গড়গড়ি ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের চর এলাকায় আপেল,বাউ ও থাই জাতের কুল চাষ করা হয়েছে।

চরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে যায়, বালিযুক্ত যে পদ্মার চরে অন্য ফসল করতে হিমশিম খেতে হয়েছে, সেখানে কুল চাষ করে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন সফিকুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক,ইউসুফ আলী, জামাল উদ্দীন, সোনা মিঞা, ইউসুফ আলীর মতো অনেক চাষী। পদ্মার চরে এমন সোনার ফসল ফলানো যায়, তা প্রমান করেছেন এলাকার শিক্ষিত বেকার যুবকরাও।

কুলচাষী সফিকুল ইসলাম সানা জানান, তিনি ১০৪ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি গড় উৎপাদন হচ্ছে ১৩০ মণ। প্রায় ১ কোটি টাকার কুল বিক্রির আশা করছেন তিনি। সাবেক পৌর মেয়র আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রথমে আপেল কুলের বাজার ছিল ১৫শত টাকা মণ। এখন কমে দাড়িয়েছে ১ হাজার টাকায়। তবে বাউ ও থাই কুলের বাজার ভালো থাকায় পুষিয়ে নিতে পারবেন কৃষকরা। ৩০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে কুল চাষ করেছেন তিনি। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা।

৪০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন, গড়গড়ির জামাল উদ্দীন। খরচ বাদে লাভের আশা করছেন তিনি। সমতল এলাকায় ২০ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেছেন বাউসার মুনজু সরকার।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় সফলকাম হয়েছেন বলে কৃষকরা জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এখানকার কুল বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম খান জানান, উপজেলায় ৭০ হেক্টর জমিতে কুলের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হেক্টর চাষাবাদ হয়েছে দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চলে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৬০ হেক্টর। বিভিন্ন ফসল চাষে আর্থিকভাবে লাভবান না হওয়ায় অন্য ফসলের বিকল্প হিসাবে কুল চাষে বেশী আগ্রহী কৃষকরা। তার মতে, কুলের গবেষণা চালিয়ে উন্নত জাত তৈরি করে ব্যাপক আবাদের ব্যবস্থা করলে এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল আমের পরেই হবে কুলের স্থান। যা বিদেশে রপ্তানি করে অর্থনৈতিকভাবে কৃষকদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে