আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

0
317
womenday
নারীদিবস
womenday
নারী দিবস

‘নারী তুমি সম্মান,

নারী তুমি শ্রদ্ধা,

নারী তুমি আমাদের অহংকার,

নারী তোমায় অভিনন্দন’।

আজ ৮ই মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আন্তর্জাতিক নারী দিবস আসলেই নারীর অগ্রগতি ও ক্ষমতায়ন নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়। কোনো কোনো ব্যাখ্যায় অগ্রগতির পক্ষে পাল্লা ভারী হয়, কোনো ব্যাখ্যায় আবার বঞ্চনার পাল্লাই ভারী হয়। সহজ কথায় আবার কেউ কেউ স্বীকার করে নেন নারীর অগ্রগতি ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে।

২০১৪ সালের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘নারী প্রগতি, রাষ্ট্র সমাজ প্রগতি।’ সোজা বাংলায় দাড়ায় নারীর প্রগতি নিশ্চিত হলেই রাষ্ট্র সমাজ সবই প্রগতির দিকে এগোবে।

১৯১০ সালে প্রথম জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের উদ্যোগে  নারী দিবস পালন শুরু হয়। জাতিসংঘের স্বীকৃতি নারী দিবসের গুনগতমাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের দেশও প্রতিবছর নারী দিবস পালন করে আসছে।

‘হৃদয় খুলে হাত বাড়িয়ে দাও দাও’ এমন শ্লোগান নিয়ে প্রতিবছরের মতো নারী দিবস পালন করতে এবারও দেশের বিভিন্ন সংগঠনের নানা আয়োজন রয়েছে। বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশের সাথে একসাথে দিবসটির বিভিন্ন দিক তুলে আলোচনা সভার আয়োজন থাকছে।

নিজেদের  সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধ থেকে নারী দিবস উদযাপন করবে বাংলাদেশ। বিশ্বের অনেক দেশে নারী দিবসে সরকারি ছুটি থাকলেও বাংলাদেশে এই দিনটিতে কোনো ছুটি থাকেনা। তবে নানামূখী কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বেশ আড়ম্বরেই পালিত হবে আজকের নারী দিবসটি।

নারী অগ্রগতিতে সাফ্যলের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের তিন নারীকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেছে অগ্রণী ব্যাংক। বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে দেশের প্রথম নারী স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী, এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার ও মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য নারী বীরপ্রতিক তারামন বিবিকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে নারী উন্নয়নে বেশ অগ্রগতি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে নারীদের ভূমিকা আগের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। এছাড়া নারীরা অর্থনীতির বাহিরে রাজনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বেগম রোকেয়ার যে স্বপ্ন, তা বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে এমন দাবী করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলেন,  দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে নারীর অবস্থান বর্তমানে উজ্জ্বল ও সদৃশ্যমান। অতীতের থেকে আমরা নারী অবস্থান পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের নারীদের এখন সকল ক্ষেত্রে পদচারণা। তবে  নারী উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ে বাধা হিসেবে কাজ করছে নারীর প্রতি সহিংসতামূলক আচরণ। একদিকে নারী অগ্রযাত্রা অপরদিকে নারীরা এখনও পারিবারিক, সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে দৈহিক ও মানসিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। নারী উন্নয়নের অগ্রসরতা স্থায়ী করার জন্য সমাজ ও রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। নারীদের যানবাহন ও কর্মক্ষেত্রে কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে দিতে হবে। নারী অধিকার আইনগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে।

নারীর প্রতি সহিংসতামূলক আচরণ  নারী উন্নয়ন ও অধিকার আদায়ে বাধা হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি কাজ, চাতাল নির্মান, সেনাবাহিনী, ক্রিকেট ও অন্যান্য খেলাধুলা জীবনের এমন কোন ঝুঁকিপূর্ণ পেশা নেই যেখানে আমাদের দেশের নারীরা নেই। এমনকি দেশের অর্থনীতির চাকা পোশাক শিল্পে নারীরা কর্মরত, দেশে একহাজারের বেশি নারী সাংবাদিক বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কাজ করে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি বোধহয় শিক্ষাক্ষেত্রে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রাথমিকে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলে শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি। ২০১৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রাথমিকে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩ দশমিক শতাংশ ও ছেলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ। মাধ্যমিকেও নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশ শিক্ষা, তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯০ সালেও মাধ্যমিকে মেয়ে ও ছেলে শিক্ষার্থীর অনুপাত ছিল ৩৪ :৬৬।

এদিকে নারীর ক্ষমতায়ন ও অগ্রগতির খবরের বিপরীতে বঞ্চনা, নিগ্রহ, সহিংসতার মতো খবরগুলো যে নেই তা নয়। নারীর বিরুদ্ধে প্রবল সহিংসতা আছে বলেই নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে তৎপর হওয়ার বিষয়টি ২০১৩ সালের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্যে স্থান দিতে হয়েছিল।

২০১৪ সালের নারী দিবস শ্লোগানের সাথে আমাদের নারীরাও ‘হৃদয় খুলে হাত বাড়িয়ে দেবে’ এ প্রত্যাশা নিয়ে দেশের সকল নারীদের অভিনন্দন।