রুগ্নের তালিকায় আরও ১২৭ পোশাক কারখানা

0
57
127 new rmg factory at sick list

127 new rmg factory at sick listগত বছরের কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে পোশাকশিল্পে রুগ্ন কারখানার সংখ্যা বেড়েছে। গত ৬ মাসে বিজিএমইএর রুগ্ন কারখানার তালিকায় নাম লিখিয়েছে আরও ১২৭ পোশাক কারখানা। তাতে এখন সংগঠনটির মোট রুগ্ন কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৬টি। সংগঠনটি বলছে, আরও ২৫টি আবেদন তাদের কাছে জমা রয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, রানা প্লাজা ধসের পর থেকে পোশাক শিল্পে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, মূলত তার পর থেকে এই রুগ্ন শিল্পের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এরপর কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা পোশাক খাতের সাপ্লাই চেইনকে ধসে দেয়। তাতে কারখানাগুলোর অন্তত ৪০ শতাংশ রপ্তানি আদেশ কমেছে। সময়মতো পণ্য জাহাজীকরণ করতে না পারায় কোটি টাকা লোকসানও গুনতে মালিকদের।

গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৭ দিনই শ্রমিকরা কাজ করতে পারেনি। আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, এয়ারফ্রেড, শিপেমন্ট ডিলে, পণ্য জাহাজীকরনের বাড়তি খরচসহ নাশকতায় ক্ষতির মুখে পড়ে পোশাকশিল্প। তাতে শিল্পের চেইন অব কমান্ড ধসে যায়। এছাড়া বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাক শিল্পের ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া, ক্রেতাদের আস্থা কমে গিয়ে রপ্তানি আদেশ স্থানান্তর হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

ফলে রপ্তানি আদেশ না পাওয়ায় বহু কারখানার মালিক শ্রমিকদের কাজ দিতে পারিনি। অনেকে সাব-কন্ট্রাক্টের জন্য চেষ্টা চালায়। তবে সাব-কন্ট্রাক না পাওয়ায় অনেকে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। অর্ডার না পাওয়া বহু কারখানা রুগ্ন তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করেছে।

বাংলাদেশ রুগ্ন শিল্প সমিতির স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান এম রুহুল কুদ্দুস অর্থসূচককে জানান, এই ৬ মাসে পোশাক শিল্পে রুগ্ন কারখানার সংখ্যা বেড়েছে। বিজিএমইএ ১২৭টি রুগ্ন কারখানার তালিকা সুপারিশ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আরও ২৫টি কারখানা বিজিএমইএর কাছে আবেদন জমা দিয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতিমালা বিভাগ ( বিআরডিপি)৭ নং সার্কুলারে রুগ্ন শিল্প বাঁচাতে সরকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে পোশাক শিল্পের জন্য তা নমনীয় না হওয়ায় মালিকরা কোনো সুফল পাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

তিনি জানান, সার্কুলারের নীতিমালা নমনীয় করলে রুগ্ন শিল্পের অনেক সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। তাছাড়া সরকার যদি শুপারিশ বাস্তবায়ন করে তাতে এক দিকে রুগ্ন শিল্প বাঁচবে। অন্য দিকে খেলাপি ঋণ পরিশোধ হবে। এতে করে এই কারখানাগুলো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।

এর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হবে। আর অসংখ্য শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান তিনি।

রুগ্ন শিল্প নিয়ে সংগঠনঠির দ্বিতীয় সহ-সভাপতি বলেন, রুগ্ন শিল্প নিয়ে বিজিএমইএ’র প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এর পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ রুগ্ন শিল্পের জন্য ২০১৩ সালের ২০ জুন প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বলা হয়, সরকার ঘোষিত নির্দেশনার আলোকে চিহ্নিত রুগ্ন শিল্পসমূহের ঋণ হিসাব অবসায়ন বা নিষ্পত্তি করা হবে। এক্ষেত্রে সরকার যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে তা বিবেচনায় আনা হবে।
তবে সরকার কর্তৃক ঘোষিত সুদ ভর্তুকি প্রদানের বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্ত না পাওয়া পর্যন্ত বেসরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য কার্যকর বিবেচিত হবে না।

জানা যায়, যে সব চিহ্নিত রুগ্ন শিল্পের জন্য সরকার এখনও কোনো নির্দেশনা বা প্যাকেজ ঘোষণা করেনি তাদের জন্য কোনো গ্রাহক ঋণ নিস্পত্তিকরণ করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ প্রতিষ্ঠানের দায়-দেনা পরিশোধের জন্য ঋণসমূহ ব্লকড একাউন্টে স্থানান্তর করে মরেটরিয়াম সুবিধা প্রদান ও নমনীয় পরিশোধ সূচি নিরূপণ করে তা করতে পারবে।

তাছাড়া,অনারোপিত সুদ, অনিশ্চিত খাতে রক্ষিত সুদ ও দণ্ড সুদ মওকুফ (সম্পূর্ণ বা আংশিক) করা যাবে। এক্ষেত্রে মূল ঋণ এবং মামলা খরচ মওকুফ করা যাবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, আরোপিত সুদ মওকুফের প্রয়োজন হলে মূলধন নিশ্চিত করে এবং ব্যাংকের হিসাব থেকে ঋণ না নিয়ে তা বিবেচনা করা যেতে পারে।

নতুন ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত ডাউন পেমেন্ট শিথিল করার বিষয়টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বিবেচনা করবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি নিতে হবে।