ভালো লভ্যাংশেও শেয়ারের দর পতন

0
76
DSE-Dawn
উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে কমেছে সূচক

DSE-Dawnপুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দুর্দিন যাচ্ছে। ভালো লভ্যাংশেও এসব শেয়ারের বিনিয়োগকারীদের মন ভরছে না। শেয়ারের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার পরিবর্তে উল্টো কমে যাচ্ছে।

গত সপ্তাহে লভ্যাংশ ঘোষণাকারী প্রায় ৬৭ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। যদিও কোম্পানিগুলো প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মুনাফা করেছে। লভ্যাংশও হয় গতবছরের চেয়ে বেড়েছে অথবা তার সমান আছে।

পরিসংখ্যান অনুসারে গত সপ্তাহে তালিকাভুক্ত ১৪ টি ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১০ টির শেয়ার দর কমেছে। অন্যদিকে চূড়ান্ত ও অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ ঘোষণাকারী অন্যখাতের দুটি প্রতিষ্ঠানেরই শেয়ারের দাম বেড়েছে। এমনকি শুন্য লভ্যাংশ ঘোষণার পরও শেয়ারের দাম বেড়েছে সিমেন্ট খাতের একটি কোম্পানির।

লভ্যাংশ ঘোষণার পর সবচেয়ে বেশি শেয়ারের দর কমেছে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের।এই ব্যাংকটি গত ৩ মার্চ ২০১৩ সালের জন্য ৪০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।কিন্তু গত তিন কার্যদিবসে ব্যাংকটির শেয়ার দর কমে ১০৭ টাকা থেকে ১০৪ টাকা হয়েছে।

এছাড়া শেয়ার দর কমে ব্যাংক এশিয়ার ১৯ টাকা ৫০ থেকে ১৯ টাকা,প্রাইম ব্যাংকের ২৫ টাকা থেকে ২৪ টাকা ৩০ পয়সা,সাউথ ইস্ট ব্যাংকের ২২ টাকা থেকে ২৩ টাকা,আল-আরফা ব্যাংকের ২০ টাকা থেকে ১৮ টাকা ৮০ পয়সা,ব্রাক ব্যাংকের ৩০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ২৯ টাকা,পূবালী ব্যাংকের ৩৬ টাকা ৩৫ টাকা ৪০ পয়সা,ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ২৭ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ২৮ টাকা ১০ পয়সা,ইস্টার্ন ব্যাংকের ৩২ টাকা ৪০ পয়সা থেকে ৩১ টাকা ৮০ পয়সা হয়েছে।

এছাড়া লভ্যাংশ ঘোষণার পর তিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দর পতন হয়েছে।এর মধ্যে ইউনাইটেড লিজিং কোম্পানির ৩১ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩০ টাকা হয়েছে।

উত্তরা ফিন্যান্সের ৮১ টাকা ৮০ টাকা,প্রাইম ফিন্যান্সের ২৬ টাকা থেকে ২৫ টাকা ৩০ পয়সা।

এদিকে লভ্যাংশ ঘোষণার পরে সবচেয়ে বেশি শেয়ার দর বেড়েছে ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের।কোম্পানিটি সমাপ্ত অর্থবছরে ৬০০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি লভ্যাংশ ঘোষণার পরে এই শেয়ারের দর বেড়েছে ৯০০ টাকা থেকে এক হাজার ১৭২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত।

এদিকে তালিকাভুক্তির পর থেকে কোন লভ্যাংশ দেয় নি লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট।বর্তমানে পুঞ্জীভূত লোকসানে রয়েছে কোম্পানিটি।আগের বছরের তুলনায় ৩৭ শতাংশ বেশি মুনাফা বাড়ার পরেও কোম্পানিটি সমাপ্ত বছরে কোন লভ্যাংশ দিতে পারে নি।

তারপরেও কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৩৮ টাকা ৫০ থেকে ৪৩ টাকা।
পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ অর্থসূচককে বলেন,আমাদের পুঁজিবাজার এখনো গুজবে চলে।অনেক বিনিয়োগকারী আছে যারা ভালো ভাবে বোঝে না।
আবার যারা আগে ব্যাংকের শেয়ার কিনেছিল।তাদের প্রত্যাশা ছিল শেয়ার দর আরো বাড়বে। কিন্তু দর প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ে নি। এতে কোম্পানিগুলোর ঘোষিত লভ্যাংশে হতাশ হয়ে অনেকেই শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে।
এসএ/