আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস

0
44
internatiomal women's day

internatiomal women's dayমানুষ হিসেবে নারীর অধিকার এবং সম্মান সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পৃথিবীজুড়ে ৮ই মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়, নারী প্রগতি, রাষ্ট-সমাজ প্রগতি। বিশ্বের অনেক দেশে নারী দিবসে সরকারি ছুটি থাকলেও বাংলাদেশে এই দিনটিতে নেই কোনো ছুটি।

নারী দিবস পালনের ইতিহাসও সুদীর্ঘ। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকেরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।

১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন ডাক দেন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। বাংলাদেশেও ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীনতার লাভের পূর্ব থেকেই এই দিবসটি পালিত হতে শুরু করে। অতঃপর ১৯৭৫ সালে খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে।

ইতিহাসের গতিধারা পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, নারী কোনও অংশেই পুরুষের পিছনে ছিল না, বরং পাশেই ছিল। ফ্রান্সের প্যারি কমিউন, ফরাসি বিপ্লব, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক আন্দোলন, ভারত উপমহাদেশে বিদেশী হটাও আন্দোলন এবং আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামেও নারীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখ করার মত। অথচ প্রাপ্য মর্যাদা কখনোই নারীকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। বরং সামাজিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধক্তার দোহাই দেখিয়ে নারীকে বঞ্চিত করা হয়েছে তার প্রাপ্য হতে।

সংখ্যার হিসাবে দেখা যায়, পৃথিবীতে নারী-পুরুষের প্রায় সমান। অথচ, বিশ্বের মোট সম্পদের মাত্র এক শতাংশের মালিক মেয়েরা। মেয়েদের গৃহস্থালী কাজের আর্থিক স্বীকৃতি এখনও দেওয়া হয়নি। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা তো বটেই এমনকী উন্নত বিশ্বের চিত্রটাও অনেকটা একই। কখনও শ্লীলতাহানি, কখনও যৌন নির্যাতন, কখনও মেয়ে হিসাবে জন্মানোর জন্য চূড়ান্ত নিপীড়ন, আবার কখনও ধর্ষণ।

কর্মক্ষেত্রে নারীর মজুরি পুরুষের চেয়ে কম। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের ২০০৯-এর এক রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে পুরুষের চেয়ে নারী ১৬ ভাগ পারিশ্রমিক কম পায়।

বিশ্ব, সমাজ, যুগ যত তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, ততোই এগিয়ে চলার চেষ্টা চালাচ্ছে মেয়েরা। কিন্তু কিছু অমানুষিক লোভ-লালসা, আর কিছু অদৃশ্য শক্তি মহিলাদের কেমনভাবে যেন পিছনে টেনে ধরে রেখেছে। সেই অদৃশ্য শক্তিকে অগ্রাহ্য করে কেউ কেউ অনেক উপরে উঠতে পারলেও, বেশিরভাগই সেই অদৃশ্য শক্তির কাছে পরাজয় স্বীকার করছেন প্রতিনিয়ত।

কিন্তু নারীকে তার প্রাপ্যটুকু বুঝিয়ে না দিয়ে প্রত্যাশিত সমৃদ্ধি এবং শান্তি অর্জন কখনোই সম্ভব নয়। তাই এখনই স্ব-অবস্থান হতে নারী অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।