দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে বিএসসিসিএলের চুক্তি

0
46
Submarine Cable company, bsccl
সাব মেরিন ক্যাবল কোম্পানির ল্যান্ডিং স্টেশন

Submarine_Contractদ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। এ ক্যাবল স্থাপনের জন্য গঠিত কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। শুক্রবার  মালয়েশিয়ার নতুন রাজধানী পুত্রজায়ায়  এ চুক্তি হয়েছে। আর এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। খবর রয়টার্স, ফ্রি মালয়েশিয়া টুডে ও টেলিকম নিউজ টুডের। বিএসসিসিএলের একটি সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উল্লেখ, গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কোম্পানি ফ্রান্সের আলকাটেল লুজেন আর্থিক সংকটের জন্য সময় চাওয়ায় তা পিছিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে দেখা দেয় অনিশ্চয়তা। শুক্রবার আনুষ্ঠানিক চুক্তির ফলে সব অনিশ্চয়তা কেটে গেছে।

সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্ট ইউরোপ কনসোর্টিয়ামের এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ নামের আন্ত:দেশীয় ক্যাবল নেটওয়ার্ক স্থাপিত হবে ১৪ টি কোম্পানির মালিকানায়। এদের মধ্য রয়েছে বাংলাদেশের সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড, চিনের চায়না মোবাইল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, চায়না গ্লোবাল টেলিকমিউনিকেশন লিমিটেড, চায়না নেটওয়ার্ক কমিউনিকেশন গ্রুপ, এমিরেটস ইন্টিগ্রেটেড টেলিকমিউনিকেশনস লিমিটেড, অরেঞ্জ (ফ্রান্স টেলিকম), মায়ানমার পোস্ট অ্যান্ড টেলিকম, পিটি টেলিকমিউনিসকি ইন্দোনেশিয়া  ইন্টারন্যাশনাল, সৌদি টেলিকম কোম্পানি,  সিঙ্গাপুর টেলিকমিউনিকেশন্স,  শ্রীলংকা টেলিকম পিএলসি, টেলিকম ইতালি স্পার্কল, টিওটি পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড এবং ইয়েমেন ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস। বিএসসিসিএলের পক্ষে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন চুক্তিতে সই করেন।

সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের মাধ্যমে দেশ বাড়তি ১ হাজার ৪০০ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ পাবে। বর্তমান সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ২০০ জিবিপিএস  ব্যান্ডউইথ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মাত্র ৪০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করতে পারছে দেশটি। বাকী ব্যান্ডউইথ এখনও অব্যহৃত। তারপরও ঝুঁকি কমাতে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হচ্ছে দেশ। আর এ লক্ষে যুক্ত হচ্ছে সাউথ ইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্ট ইউরোপ কনসোর্টিয়ামের এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ নামের আন্ত:দেশীয় ক্যাবল নেটওয়ার্কে।

এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ প্রকল্পের ক্যাবলে দক্ষিণ এশিয়া,দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া,মধ্য এশিয়া,আফ্রিকা ও ইউরোপের ১৭ দেশ সংযুক্ত হচ্ছে। দেশগুলো হচ্ছে-বাংলাদেশ, ফ্রান্স, ইটালি, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া, মিশর, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমার।

এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ প্রকল্পের আওতায় সাগরের নিচ দিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ অপটিক্যাল ক্যাবল স্থাপন করা হবে। বাংলাদেশে ক্যাবলটি আসবে সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মায়ানমার হয়ে। কনসোর্টিয়াম প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার পর্যন্ত ক্যাবল পৌঁছে দেবে। সেখান থেকে বাড়তি ৩শ কিলোমিটার ক্যাবলের মাধ্যমে এটি পটুয়াখালির কুয়াকাটায় নিয়ে যাওয়া হবে। কুয়াকাটাতেই হবে এর ল্যান্ডিং স্টেশন। ইতোমধ্যে সেখানে ১০ একর জমি কেনা হয়েছে।

দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে বাংলাদেশকে ৬ কোটি ডলার, স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ৫শ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এর মধ্যে  ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি) দেবে প্রায় ২৪০ কোটি টাকা।  বাকী টাকার সংস্থান করবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড। চুক্তি স্বাক্ষরের ২২ মাস পর এ ক্যাবলে ডাটা আদান-প্রদান শুরু হওয়ার কথা। এ হিসেবে ২০১৬ সালের প্রথমভাগে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে।