গরমে চাই ঠাণ্ডা তরমুজ

0
129
tormuj

tormujশুরু হয়েছে গরম। এক ফালি তরমুজ প্রাণে এনে দিতে পারে প্রশান্তি। অসহ্য গরমে ঘেমে ভিজে এখন এক ফালি রসাল তরমুজের শরবত হলে মন্দ হয় না। আর সেটা যদি ফ্রিজ থেকে বের করা ঠাণ্ডা তরমুজের শরবত হয় তাহলে তো কথাই নেই। আর প্রাণের সে প্রশান্তির তরমুজ এখন বাজারে আসতে শুরু করেছে।

ছোট আকৃতির তরমুজ দামে পছন্দ না হলেও শখের বশে কিনছেন অনেকই । কেউবা আবার ছোট্ট সোনামনির আবদার রক্ষার জন্য দামের দিকে খেয়াল না করেই বেশি দাম দিয়ে কিনছেন। বাজারে যে তরমুজ দেখা যাচ্ছে তা চট্টগ্রামের পতেঙ্গার তরমুজ। বাজারে নতুন হওয়ায় এর দাম একটু বেশি বলেই স্বীকার করেছেন এর ব্যবসায়ীরা।

প্রাপ্তিস্থান ও দরদাম:

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার, বাস স্ট্যান্ড ও জনবহুল স্থানে দেখা মিলছে তরমুজের। ভ্যানে কিংবা টুকরিতে করে বিক্রি করছে তরমুজ। বাজারে এসব তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা পিস হিসেবে।

ক্রেতা-বিক্রেতার বক্তব্য:

তরমুজ ব্যবসায়ী আতিকুল হক বলেন, আমাদের এ তরমুজ পতেঙ্গা থেকে এসেছে। এখন যে তরমুজ বাজারে তার দাম একটু বেশি। কেরিং খরচ বেশি পড়েছে, নতুন হওয়ায় বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়েছে তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হয়েছে।

খাইরুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, তরমুজের দাম অত্যাধিক তারপরও কিনতে হচ্ছে কারণ সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার ছোট্ট ছেলে বলেছে আব্বু তরমুজ এনো।

তরমুজের উপকারিতা:

*রক্তের স্বাভাবিকতা রক্ষা:

গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে তরমুজের জুড়ি মেলা ভার। এই ফলে শতকরা প্রায় ৯২ ভাগ পানি আছে। তাই তরমুজ খেলে সহজেই পানির তৃষ্ণা মেটে। তরমুজের বিশেষ কয়েক ধরনের অ্যামাইনো এসিড, নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে রক্তের স্বাভাবিক কার্যপ্রণালী বজায় রাখে।

উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে:

উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। তরমুজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ আছে। এতে বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণও অনেক। বিটা ক্যারোটিন চোখ ভালো রাখে। প্রতিদিন দুই কাপ পরিমাণ তরমুজ খেলে শরীরে ৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি-র চাহিদা মেটে। তরমুজে আরও আছে পটাশিয়াম, যা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও কমায়। পটাশিয়াম শরীরে ফ্লুইড ও মিনারেলসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ২ কাপ তরমুজে ৩৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম পাওয়া যায়। পরিমাণে কম হলেও তরমুজে সোডিয়াম রয়েছে।

*ত্বক ভালো রাখে:

প্রতিদিন ২ কাপের মতো তরমুজ খেলে শরীরে ভিটামিন এ-র চাহিদা পূরণ হয়। তরমুজ খেলে ত্বক উজ্জ্বল ও সুস্থ থাকে। কারণ ভিটামিন এ ত্বককে ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। তরমুজের ভিটামিন বি৬, ভিটামিন বি শরীরে এনার্জি তৈরিতে সাহায্য করে। এর ভিটামিন সি কোলাজেন গঠনে সাহায্য করে।

এছাড়াও তনমুজে আছে থায়ামিন ও ম্যাগনেসিয়াম। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ তরমুজ শরীর সতেজ রাখে। এতে ফ্রি র‌্যাডিকেলস প্রশমিত হয়। ফ্রি র‌্যাডিকেল রক্তনালীতে কোলেস্টেরলের স্তর তৈরি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাঁড়ায়। এর থেকে অ্যাজমাও বৃদ্ধি পেতে পারে। হাড়ের জোড়ায় ব্যথা বাড়ে। সবুজ খোসাসহ তরমুজ ক্যানসার রোগীদের জন্য খুবই আদর্শ। অ্যাজমা, ডায়াবেটিসের মতো রোগে ব্যথা উমশমে তরমুজ সাহায্য করে। তরমুজের বিঁচি অন্ত্রের জন্য উপকারী।

*যৌন শক্তি বৃদ্ধি:

টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনি-ভার্সিটির গবেষক বিনু পাতিল বলেন, নতুন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, যারা যৌনশক্তির দিক থেকে অক্ষম বা দুর্বল, তাদের সক্ষমতার জন্য তরমুজই প্রাকৃতিক প্রতিষেধক। অর্থাৎ তাদের এখন থেকে আর ভায়াগ্রার পেছনে টাকা না ফেলে তরমুজ বন্দনায় মেতে উঠলেই চলবে। বিনু পাতিল তার সহকর্মীদের নিয়ে গবেষণার পর বিস্ময়করভাবে দেখতে পান, একটি তরমুজে সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো এসিডের পরিমাণ এত বেশি, যা আগে বিজ্ঞানীরা ধারণাও করতে পারেননি।

‘দি জার্নাল অফ সেক্সুয়াল মেডিসিন’-এর প্রধান সম্পাদক ইরউয়িন গোল্ডস্টেইন বলেন, বিশেষ অঙ্গের উত্তেজনার জন্য অবশ্যই নাইট্রিক এসিড দরকার। কিন্তু বেশি করে তরমুজ খেলেই তা প্রাকৃতিকভাবেই একই কাজটি করে দেবে, এটা এখনো প্রমাণিত নয়। অবশ্য বিনু পাতিল এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি, জৈবিক তাড়না সৃষ্টি করতে একজন অক্ষম লোককে ঠিক কত পরিমাণ তরমুজ গিলতে হবে

এসএস/