ভারত যাচ্ছে না ইলিশ

0
40
ইলিশ রপ্তানি, hilsha export ban
ইলিশ মাছ- ফাইল ছবি

ইলিশ রপ্তানি, hilsha export banভারত যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছে না ইলিশ। উঠছে না নিষেধাজ্ঞা। ইলিশ রপ্তানি বন্ধই থাকছে। নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত পুন:বিবেচনার অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসেছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

২০১২ সালের জুলাই থেকে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ আছে। সুস্বাদু এ মাছটি শুধু ভারতেই রপ্তানি হত। বিশেষ করে পশ্চিমবাংলার ভোজনরসিকদের কাছে বাংলাদেশের ইলিশ ছিল পরম কাঙ্খিত। এ কারণে তখন থেকে নানাভাবে দেশটি ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক-সব ধরণের অনুরোধই করেছে তারা।

দেশে ইলিশের চাহিদা ও যোগানের মধ্য অনেক বড় ব্যবধান রয়েছে। চাহিদার তুলনায় যোগান কম থাকায় সারাবছরই ইলিশের দাম থাকে চড়া। এর মধ্যে কিছু মাছ ভারতে রপ্তানি হলে ঘাটতি আরও বেড়ে যায়। তাতে বাজার অনেক তেতে উঠে। এ কারণে দেশের বেশিরভাগ মানুষই চায় না ইলিশ রপ্তানি হোক।

অন্যদিকে ইলিশের রপ্তানি মূল্য নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অতীতে স্থানীয় বাজারের চেয়ে বেশ কম দামে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। সন্দেহ করা হয়, ইলিশ রপ্তানির আড়ালে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ পাচার হয়েছে তখন। রপ্তানিকারকরা ভারতের আমদানিকারকদের কাছ থেকে বেশি মূল্য পেলে কাগজে-কলমে রপ্তানি মূল্য কমিয়ে দেখিয়েছে। এভাবে বাড়তি অর্থটুকু সেদেশেই রেখে দেওয়া হয়েছে। চোরাকারবারে পণ্য মূল্য পরিশোধে ওই অর্থ কাজে লেগেছে। আবার কিছু অর্থ ভারত থেকে বিশ্বের অন্যান্য সুবিধাজনক জায়গায় চলে গেছে।

তারপরও ভারত সরকারের নানামুখী তৎপরতায় অনেকটা নমনীয় হয়েছিল সরকার। ফের রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছিল। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছিল সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইলিশ রপ্তানির পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছিল চোরাকারবারকে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য- দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ থাকায় ইলিশ চোরাই পথে পাচার হচ্ছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের ইলিশ মাছের বাজার অন্য দেশের দখলে চলে যাচ্ছে।

ইলিশ রপ্তানির পথ সুগম করতে প্রায় ১২ বছর পর ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য প্রস্তুতিও শেষ করে এনছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে ৬০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত ওজনের ইলিশের রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছিল ৭ ডলার বা প্রায় ৫৬০ টাকা। এক কেজির ওপর থেকে দেড় কেজির কম ওজনের ইলিশ রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য ৯ ডলার বা ৭২০ টাকা। আর দেড় কেজির ওপরে হলে রপ্তানি মূল্য ১৪ ডলার বা ১ হাজার ৯০ টাকা।

এর আগে ২০০০ সালে সবশেষ ইলিশের দাম নির্ধারণ করা হয়। তখন ৬০০ গ্রাম থেকে এক কেজির নিচের ওজনের ইলিশ রপ্তানি মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৬ ডলার, যা প্রায় ৪৮০ টাকা। এক কেজির ওপর থেকে দেড় কেজির নিচের ইলিশ রপ্তানিতে পাওয়া যেত ৮ ডলার বা ৬৪০ টাকা। আর দেড় কেজির ওপরে হলে রপ্তানি মূল দাঁড়াতো ১২ ডলার।

তবে নানা কারণে সরকার ইলিশ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে এমন আশংকা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।