নয় দিনে সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৭৪০ কোটি টাকা

0
76
টাকা
টাকা (ফাইল ছবি)

Takaমাত্র নয় দিনের ব্যবধানে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে প্রায় দুই হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ২৬ তারিখ পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নীট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ১৭ ফেব্রুয়ারি যার পরিমাণ ছিল মাত্র এক হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। সরকারের ঋণ সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রায় আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ব্যাংকিং খাত থেকে নেওয়া সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। তবে এ সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পরিশোধ করায় সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের মাত্রা ঘোষিত মুদ্রানীতির কারণে কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এ মুহূর্তে সরকারের ঋণে আশু কোনো উদ্বেগের বিষয় নেই এবং সরকারের ঋণ গ্রহণের মাত্রা এখনো বেশ পরিমিত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়েছে ৯১ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা, যা গত জুন শেষেও ছিল ৭৭ লাখ ৯৫৯ কোটি টাকা। সে হিসেবে চলতি অর্থবছরের সাত মাসে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বেড়েছে ১৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ রয়েছে ৪ হাজার ৬৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। আলোচ্য সময় পর্যন্ত ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল এক লাখ ৯১ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।

আলোচ্য সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাওনা হিসেবে নয় হাজার ২৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ হিসেবে পরিশোধ করেছে সরকার।

এদিকে ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের হার বাড়িয়ে ২২ দশমিক নয় শতাংশ করা হয়েছে।

এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ঘোষিত মুদ্রানীতির কারণে ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এ মুদ্রানীতি সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকমুখী ব্যাংকিং খাতের জন্য বেশ সুখকর নয়। এছাড়া ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নেওয়ায় তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের ঋণ দিয়ে যে পরিমাণ মুনাফা করা হচ্ছে, আমানত সংগ্রহ করতে ব্যয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। এতে দেখা যাচ্ছে, সরকারের ঋণ দিতে গিয়ে তাদের নিট লোকসান হচ্ছে। আর এ লোকসান সমন্বয় করতে বেসরকারি খাত থেকে তুলনামূলক বেশি সুদ নিতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

হিসাব অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৪ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে সরকার, যা গত অর্থবছরের বাজেটে ২৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। সে হিসেবে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে লক্ষ্যমাত্রার দুই হাজার কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়েছে। তবে এই ঋণ সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। কেননা চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ২৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।

এসএই/