১৪ ফেব্রুয়ারি, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস

::

0
163

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস। ১৯৮৩ সালের এই দিনে ঢাকায় আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। এতে জয়নাল,জাফর, দীপালী সাহাসহ ১০ জন নিহত হয়। এর পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান কাঞ্চন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যেনো বেগবান না হয় সেজন্য স্বৈরাচার শাসকের বিরুদ্ধে আরও অনেক লাশ গুম করে ফেলার অভিযোগ ওঠে।

বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিলো শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিলো শিক্ষার্থীরা।

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের আরেকটি বড় আন্দোলন ও আত্মাহুতির নজির ছিলো ১৪ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন স্বৈর শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের পরের বছরই মজিদ খান প্রণীত শিক্ষানীতির বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীরা। এসএসসি কোর্স ১২ বছর, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব ও শিক্ষার ব্যয়ভার যারা ৫০% বহন করতে পারবে তাদের রেজাল্ট খারাপ হলেও উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়ার মতো কথাও বলা হয়েছিলো এ শিক্ষানীতিতে।

শুধু শিক্ষানীতির আন্দোলন নয়; শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, ক্লাসরুম সংকট নিরসন, সেশন জ্যাম নিরসন, সুলভমূল্যে শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণ ইত্যাদি দাবি নিয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বৃহৎ জমায়েতের আহ্বান করে।

ব্যারিকেড সরিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
ব্যারিকেড সরিয়ে নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

সেদিন শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হাইকোর্ট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। উত্তেজনার একপর্যায়ে ছাত্রনেতারা ব্যারিকেডের কাঁটাতারের ওপরে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা শুরু করেন। তখন কোনো রকম উস্কানি ছাড়াই রায়ট কার ঢুকিয়ে গরম পানি ছিটাতে শুরু করে পুলিশ। এরপর লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তা করতে ব্যর্থ হয়ে নির্বিচারে গুলি শুরু করে। এতে প্রথমেই গুলিবিদ্ধ হন জয়নাল। আহত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে গেলে পুলিশ বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে  তাকে হত্যা করে। ওইদিনই শিশু একাডেমিতে যোগ দিতে আসা দীপালী নামের এক শিশু গুলিতে নিহত হয়। পুলিশের দীপালীর লাশ গুম করে ফেলে। তাছাড়া যাত্রাবাড়ী, মতিঝিল, পল্টন এলাকায় আরো অনেককেই গুম করা হয় বলে স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। আন্দোলনে জাফর, কাঞ্চনসহ মোট ১০ জন শহীদের হদিস পাওয়া যায়।

পুলিশের গুলিতে নিহত জয়নাল।
পুলিশের গুলিতে নিহত জয়নাল।

তারপর থেকে দিনটি স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসতে থাকে। কিন্তু শাসকের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে এ দিন ভালোবাসা দিবস পালনের প্রণোদনা দেওয়া হতে থাকে। আর স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবসের দিন ভালোবাসা দিবস পালন করার জন্য প্রজন্মকে প্রলুব্দ করা লোকেদের তালিকায় সিনিয়র সাংবাদিক শফিক রেহমানের নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয়।

অর্থসূচক/কাঙাল মিঠুন