ফেব্রুয়ারিতে খাদ্যের দাম বেড়েছে বিশ্ববাজারে

0
36
food price global market
এপ্রিলে বিশ্ববাজারে তেল, চিনি ও দুধের দাম কমেছে

food price rise at global marketবৈরী আবহাওয়া এবং ইউক্রেন সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রকাশিত এক বিবরণীতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থাটির মতে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে সামগ্রিক খাদ্য সূচকের বর্তমান অবস্থান ২০৮ দশমিক ১, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। খবর রয়টার্স বার্তা সংস্থার।

বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে খাদ্য দ্রব্যের দাম তুলনামূলকভাবে বিশ্লেষণ করে প্রতি এক মাস অন্তর অন্তর প্রতিবেদন প্রকাশ করে ফাও। সংস্থাটি প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের মে মাস থেকে বিশ্ব বাজারে খাদ্য দ্রব্যের দাম অব্যাহতভাবে কমতে থাকে। পরবর্তীতে শুধুমাত্র অক্টোবর এবং ডিসেম্বর মাস ছাড়া প্রায় সব মাসেই খাদ্যের দাম কমার ফলে জানুয়ারি মাস শেষে সামগ্রিক খাদ্য সূচকের অবস্থান ২০২ দশমিক ৯ শতাংশে এসে ঠেকে।

তবে ফেব্রুয়ারি মাসে এসে উল্টো দিকে মোড় নেয় খাদ্য সূচক। ফাও’র মতে, ২০১৪ সালের দ্বিতীয় মাসে সামগ্রিক খাদ্যসূচকের উন্নয়ন ঘটেছে প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। একক হিসাবে বেড়েছে খাদ্য শস্য, চিনি, ভোজ্য তেল এবং দুগ্ধ জাতীয় খাবারের দাম।

এফএও জানায়, বিগত মাসে বিশ্ব বাজারে চিনির দাম সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তুলনামূলক হিসাবে যা প্রায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে সূচকে চিনির অবস্থান ছিল যথাক্রমে ২২১ দশমিক ৭ এবং ২৩৫ দশমিক ৪।

ফাও আরও জানায়, জানুয়ারি মাসে সূচকে ভোজ্য তেলের অবস্থান ১৮৮ দশমিক ৬ হলেও ফেব্রুয়ারিতে তা প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১৯৭ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।

ফাও’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে শেষে খাদ্য শস্য সূচকের অবস্থান ১৯৫ দশমিক ৮, যা পূর্ববর্তী মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। জানুয়ারি মাসে সংশ্লিষ্ট সূচকের অবস্থান ছিল ১৮৯।

এছাড়াও ফেব্রুয়ারি মাসে দুগ্ধ জাতীয় খাবারের দাম ২ দশমিক ৩ বেড়ে ২৬৭ দশমিক ৭ থেকে ২৭৫ দশমিক ৪ শতাংশে এসে ঠেকেছে বলে জানিয়েছে ফাও।

তবে ফাও জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বজুড়ে মাংসের দাম পূর্ববর্তী মাসের তুলনায়  দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১৮৩ দশমিক ২ থেকে ১৮২ দশমিক ৬ এ পৌঁছেছে।

প্রায় ১০ মাস পর খাদ্য দ্রব্যের দামের এই উল্মফনের জন্য পৃথিবী জুড়ে বৈরী আবহাওয়া দায়ী করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে,  শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ব্রাজিল, ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য উৎপাদন কমলেও চাহিদা বিন্দুমাত্র কমেনি, যা বিশ্ব বাজারে খাবারের দাম বৃদ্ধিতে উদ্দীপনা দিয়েছে।

এছাড়াও ইউক্রেনে ইয়ানুকোভিচ সরকারের পতন এবং পরবর্তীতে ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির দাও বৃদ্ধিতে রসদ যুগিয়েছে বলে মনে করছেন তারা।

তাদের আশংকা, ইউক্রেন নিয়ে রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা বিশ্ব সমঝোতায় না পৌঁছালে ভবিষ্যতে দাম আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।