অতিরিক্ত চিনি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়

0
141
চিনি sugar

চিনি sugar জন্মের পর নানী দাদীরা মুখে মধু দেয়নি এমন লোক খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন। প্রাচীনকাল থেকে এটি শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবে নয়, বরং চিকিৎসা ও সৌন্দর্যচর্চায়ও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।শরীরের সুস্থতায়ও আছে অনেক উপকারিতাও বেশি। তবে বেশি মিষ্টি শরীরের জন্য বিপদও ডেকে আনে। বাড়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি। খবর ‍বিবিসির।

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগ যুক্তরাজ্যের খাদ্যের শর্করার নেভিগেশন প্রমাণ পর্যালোচনা  করেছে। সেই সঙ্গে কম চিনি খাবার পরামর্শও দিয়েছে বিভাগটি। বিভাগটি বলেছে, স্বাভাবিক ওজনের একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য একদিনে মাত্র ৫০ গ্রাম করে চিনি খাওয়া উচিত ।

২০০২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর নির্দেশাবলীতে কম চিনি খাবার কথা বলা হলেও এটি শতকরা দশ ভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু স্থূলতা বাড়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের গবেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করায় এটি বর্তমানে মত পাল্টেছে ।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লোকজনের উপর জরীপ চালিয়ে হু-এর নির্দেশিকা আবারো বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে, যে অতিরিক্ত চিনি দেহের জন্য কতটা ক্ষতিকর। এছাড়াও তারা দাঁতের ক্ষতি ও স্থূলতার উপর প্রভাব সহ চিনি স্বাস্থ্যের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলে তারও প্রমাণ পেয়েছেন।

তাই নতুন এ গাইডলাইনে তারা প্রতিদিন মোট শক্তি খাবারের দশ ভাগেরও কম তথা মোট শক্তি খাবারের পাঁচ ভাগ চিনি খাবার কথা বলেছেন। শুধু দানাদার চিনি নয়, যে সব খাবারে চিনি বেশি থাকে (যেমন-মধু, সিরাপ, ফলের রস ) সেগুলোও যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানিরা।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার এই নির্দেশাবলী পরিবর্তন করার জন্য প্রায় দশ বছর সময় নিয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রচারণাকর্মীরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি বিশেষজ্ঞ ড. ফ্রান্সিসকো ব্রানকা এক সম্মেলনে বলেন, দশ ভাগ টার্গেট একটি শক্তিশালী সুপারিশ হলেও বর্তমান প্রমাণের উপর ভিত্তি করে পাঁচ ভাগ টার্গেটটা হচ্ছে শর্তাধীন। তবে তিনি পাঁচভাগের উপর বেশি জোর দেন।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের পুষ্টিবিদ্যার পরিচালক এলিসন টেডস্টোন বলেন, ‘আমাদের গবেষণা দেখিয়েছে যে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার চিনি যুক্ত খাবার খাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য গড় খাবারের হিসেবে শতকরা ১১ দশ ছয় ভাগ এবং শিশুদের জন্য ১৫ দশমিক দুই ভাগ কমানো উচিত।

আর কম চিনি খেলে দাতের ঝুঁকিও অনেকটাই কমে বলে জানিয়েছেন নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি অধ্যাপক পাউলা ময়নিহান ।