আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

0
85
mujib

mujib“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ঘরে ঘুরে দুর্গ গড়ে তোলো। যার যা আছে কিছু আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেবো, তবু এই দেশকে শত্রু মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ”

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ মহান স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) তৎকালীন পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এই স্লোগানের মাধ্যমেই সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই আহ্বান অগ্নিবেগে ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার স্বপ্নে জেগে ওঠে পুরো বাঙালি জাতি। স্বাধীনতার প্রস্তুতির এই সময়ে ২৫শে মার্চ কালো রাতে নেমে আসে পাকিস্তানিদের অমানবিক বর্বর আঘাত। পাকিস্তানি হানাদারদের পৈশাচিক গণহত্যা আর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিবাদে বাঙালি তখন হাতে তুলে নেয় অস্ত্র। বঙ্গবন্ধুর ডাকে মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুরো জাতি। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে ৩০ লাখ প্রাণ আর ২ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অবশেষে অর্জিত হয় বাঙালির অতি আশা- আকাঙ্খার স্বাধীনতা।

মহাকালের কালপরিক্রমার পথে বছর ঘুরে আবার ফিরে আসছে সেই ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের দিনটি। সেই ৪২ বছর আগে অগ্নিঝরা একাত্তরের এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কণ্ঠ থেকে ধ্বনিত হয়েছিল ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা। সে সময় বঙ্গবন্ধুর মাত্র ১৯ মিনিটের কালজয়ী ভাষণে রচিত হয় একটি ইতিহাস।

তাই ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় গৌরবের দিন। প্রতিবছর এই দিনটিকে বাঙালি জাতি গভীর আবেগ, ভালবাসা আর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। স্মরণ করে স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। তাঁর এই কৃতকর্মের তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন লাখো বাঙালির হৃদয়ে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।