বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার: চীনা রাষ্ট্রদূত

0
68

Li_june_press_clubবাংলাদেশে-চীন দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার জন্য বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুন। সেই সাথে ব্যবসার জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘ডিক্যাব টক’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই মত প্রকাশ করেন।

লি জুন বলেন, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু তারপরও দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ ঘাটতিতে রয়েছে। তাই এ ঘাটতি কমাতে এবং বাংলাদেশের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বাড়াতে বাংলাদেশে আরও চীনা বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, চীনে গত নির্বাচনের পর পররাষ্ট্রনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীন তার বন্ধুপ্রতিম দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ইচ্ছুক। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থানের কারণে তাকে ভারতের মত দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের উচিত চীনা বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য আকৃষ্ট করা এবং ব্যবসাক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা। যাতে চীনা কোম্পানিগুলো এদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম চারলেন মহাসড়ক নির্মাণে চীনা কোম্পানিগুলোর দীর্ঘসূত্রতা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, চীন সরকার এই কোম্পানিগুলোকে সরাসরি এই কাজে নিযুক্ত করেনি। উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে কোম্পানিগুলো এই দেশে এসেছে। তাই কাজের ব্যর্থতার দায়ভারও পুরোপুরি সেই কোম্পানিগুলোকেই নিতে হবে। এর জন্য চীনের সরকার দায়ী থাকবে না।

বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। তবে নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম থাকা এবং প্রধান বিরোধী দল অংশগ্রহণ না করা ছিল দুঃখজনক।

ভবিষ্যতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মাঝে সংলাপের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান করে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু ব্যবসায়ীক পরিবেশ তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

চীন থেকে বাংলাদেশের সাবমেরিন কেনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুভাকাঙ্খি রাষ্ট্র হিসেবে আমরা বাংলাদেশকে একটি সামরিক শক্তিশালী দেশ হিসেবে দেখতে চাই।

ভারত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চীন থেকে সাবমেরিন কেনায় ভারতের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। এমনকি বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়েও কোনো ঝুঁকি নেই। বাংলাদেশকে এমন কিছু দেওয়া হয়নি যেটা ভারতের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- ডিক্যাবের প্রেসিডেন্ট মইনুল ইসলাম এবং সাধারণ-সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি প্রমুখ।

জেইউ/