হল উদ্ধারে মহাসমাবেশের ডাক জবি শিক্ষার্থীদের

0
31
Jagannathn University

Jagannathn Universityআগামি ১৬ই মার্চ বেদখলকৃত হল উদ্ধারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ঐক্যজোট। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে ছাত্র-শিক্ষকদের পক্ষ থেকে এ মহাসমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এর আগে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার ১২টার সময় বজলুর রহমান হল দখল করতে গেলে রায়সাহেব বাজার মোড়ে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

অন্যদিকে, জবির শিক্ষার্থীরা বজলুর রহমান হল দখল করবে এমন ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই ঢাকার বংশালের ২৬ নম্বর পুরাতন মোগলটুলি এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বজলুর রহমান হল (বর্তমানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়) এলাকায় শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ করতে এলাকাবাসী জড়ো হতে থাকে সেখানে।

সেখানে আজ সকাল থেকেই একটি অস্থায়ী মঞ্চ তেরি করে এলাকাবাসী মাইক লাগিয়ে জনগণকে জড়ো হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। এতে ধীরে ধীরে বজলুর রহমান হলের গেটে এলাকাবাসী জমায়েত হতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ করতে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয় তারা।

এতে একদিকে জগন্নাথের শিক্ষক-ছাত্রদের আগমন অন্যদিকে বজলুর রহমান হল সংলগ্ন এলাকাবাসীর অবস্থানে চরম উত্তেজনা দেখা গেছে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড়ে। দুই দিকের জনতার মুখোমুখি অবস্থানকে সামাল দিতে সেখানে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ তারকাটার বেরিকেড নিয়ে অবস্থান নেয়।

পরে পুলিশের বাধার মুখে জবি শিক্ষক সমিতির সদস্য শেখ মাশরিক হাসান মেহেদী এবং ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহবায়ক মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল দখল হওয়া বজলুর রহমান হল সম্বলিত ব্যানার লাগিয়ে দেন।

এরপর সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া এলাকাবাসী ওই ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। এসময় এলাকাবাসী শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন।

এদিকে, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই বিদ্যালয়ে(বজলুর রহমান হল) প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৩’শ ৩১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। আর কর্মরত রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। এখানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে এসব কমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা-জীবন হুমকির মুখে পড়বে।

অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা আরিফল ইসলাম  জানান, ২৫ ও ২৬ নম্বর হোল্ডিং নম্বরের বাড়ির মধ্যে ২৫ নম্বর বাড়িটি সরকারি। ১৯৮৪ সালে এতে তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের ছাত্ররা থাকতেন। তখন  মাদক সেবনসহ নানা বিশৃঙ্খলায় জড়িয়ে পড়েন তারা। এমনকি এলাকাবাসীর সঙ্গেও বিভিন্ন সময়ে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন তারা।

তিনি বলেন, সরকার ২০০৬ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে এই জমিটি (২৫ নম্বর হোল্ডিং) লিজ দিলে ব্যক্তি মালিকানাধীন ২৬ নম্বর হোল্ডিং নিয়ে এখানে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে আগে জগন্নাথের ছাত্ররা এখানে থাকলেও ছাত্রবাসের কোনো নাম ছিল না বলে জানান তিনি।

এরপর দুপুরে সেখান থেকে ফিরে এসে বিশ্বদ্যিালয়ের মূল গেইটে সমাবেশ করেন তারা।

জবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি সরকার আলী আক্কাস এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ এলাকায় হল নির্মাণ হলে আপনাদের জন্য অমঙ্গল হবে না। রবং এ এলাকার উন্নয়ন হবে। সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে। তাছাড়া আপনাদের সন্তানরাই এসব হলে থাকবে।

এ সময় হল উদ্ধারে এগিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার জন্য এলাকাবাসীদের অনুরোধ জানান তিনি।

তবে, আন্দোলনের শুরুতে নেতৃত্বদানকারী এই শিক্ষক সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকার কেন এ বিষয়ে কথা বলছে না। শিক্ষকরা ক্যাম্পাস রেখে রাজপথে কেন? কবে এ প্রশ্নের জবাব মিলবে?

তিনি বলেন, জগন্নাথ হলের বৈধ কাগজপত্র নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেন। এসব হলে যে তৎকালীন জগন্নাথের শিক্ষার্থীরা থাকতো তা ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়। এখন আন্দোলন থামানোর জন্য এসব উদ্ভট কথা বলা হলেও কোনোভাবেই আন্দোলন থামানো যাবে না।

হল উদ্ধার করেই শিক্ষক-ছাত্ররা ঘরে ফিরবে বলে জানান তিনি।

জেইউ/