বিদ্যুতের দাম ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব পল্লী বিদ্যুতের

0
52
ছবি: ফাইল ছবি

Rural-electricityবিদ্যুতের দাম ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)। তবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো)’ আওতাধীন পবিসের প্রস্তাব গ্রহণ  করেনি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন। সংস্থাটি মনে করছে খুচরা মুল্য ৩ দশমিক ৪৮  শতাংশ বাড়ানো যেতে পারে।

বুধবার কাওরান বাজারে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কার্যালয়ে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে অংশ  নেন বিইআরসি চেয়ারম্যান এআর খান, কমিশন সদস্য ড. সেলিম মাহমুদ, প্রকৌশলী দেলওয়ার হোসেনসহ অন্যান্য।

খুচরা বিদ্যুৎ মুল্যাহার পরিবর্তনের প্রস্তাব মুল্যায়ন প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

প্রতিষ্ঠানটি খুচরা বিদ্যুতের মূল্য ৮ শ্রেণীতে ১৩ ধাপে মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে আবাসিক খাতে শুন্য থেকে ৭৫ ইউনিট  পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ৩.৩৬-৩.৮৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা ৯৫ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৪.০৫-৪.৬৩ পয়সা থেকে ৫ টাকা,  ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত  ৪.১৮-৪.৭৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা ৫০ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ৬.৮৮-৭.৩০ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা,  ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ৭.১৮-৭.৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা, ষষ্ঠ ধাপে ৬০১ থেকে উর্ধ্বে ৯ টাকা ৩৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে তা ৯ টাকা ৯০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিশেষকরে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্পের জন্য তা করা হয়েছে (ফ্লাট রেট) ৩.৩৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৭০পয়সা।

এছাড়া (বাণিজ্যিক ও অফিস) ফ্লাট রেট ৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৫০ পয়সা,  অফ-পিক আপ সময়ে ৭ টাকা ২২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯ টাকা ৫০ পয়সা, পিক সময়ে ১১ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে তা করার প্রস্তাব করা হয়েছে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ফ্লাট রেট ৬ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ৮ টাকা, অফ পিক সময়ে ৫ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে ৮ টাকা, পিক সময়ে ৮ টাকা ৪৭ থেকে টাকা করা হয়েছে।

বৃহত শিল্পের জন্য ফ্লাট রেট করা হয়েছে ৬ টাকা ৮১ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৫ টাকা ৯৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং পিক সময়ে ৯ টাকা ৩৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৫০ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে।

দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ফ্লাট রেট ৪.৪৫-৪.৫৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা। উচ্চচাপ সাধারণ ব্যবহারের জন্য ফ্লাট রেট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪০ পয়সা, অফ-পিক সময়ে ৫ টাকা ৮৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪০ পয়সা, পিক সময়ে ৯ টাকা ১৪ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৪০ পয়সা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

তাছাড়া রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের জন্য করা হয়েছে ৬ টাকা ৪৮ থেকে ৭ টাকা।

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৭২টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রায় ১ কোটি গ্রাহকের নিকট বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়। এই সব গ্রাহকের মধ্যে ৮৫ শতাংশ আবাসিক এলাকা, ৩ শতাংশ সেচ, ২ শতাংশ দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও বাকী ১০ শতাংশ বাণিজ্যক ও শিল্প শ্রেণীর।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের ৮৫ লাখ আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে ৯ লাখ গ্রাহক ১৫ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে ৯০ টাকা বিল দেয়। আর ৫৫ লাখ গ্রাহক মাসে ৩১ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে ১৩৬ টাকা বিল দেয়।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মইন উদ্দিন জানান, চলতি বছরে ২ দশমিক ৮৮ লাখ সেচ গ্রাহককে সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করছে।

এছাড়া গ্রামের প্রত্যাঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌছে দিচ্ছে। তাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ফিসারি, পল্ট্রি খামারসহ শিল্প ক্ষেত্রে এই সেবার প্রসার ঘটিয়েছে। এতে সমিতি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে বলে দাবি করেন।

বাপবিবো এই আবেদনে ২০১২-১৩ অর্থবছরে সিস্টেম লস দেখানো হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বাপবিবো তাদের আবেদনে চলতি অর্থবছরের জন্য ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ লস ধরে প্রস্তাব পেশ করেছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির বিশ্লেষণে চলতি অর্থবছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির গড় সিস্টেম লস ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ বিবেচনা করে রেভিনিউ হিসেব করা হয়েছে।

প্রতিটি গ্রাহক শ্রেণীকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ট্যারিফ নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। আর এই লক্ষ্যে প্রবিধানমালা মোতাবেক আবাসিক, বাণিজ্যক, সাধারণ শিল্প, সেচ, বৃহত শিল্প, ৩৩ কেভি, রাস্তার বাতি ও পানির পাম্প ব্যবহারকারী শ্রেনীর জন্য শ্রেণীভিত্তিক কস্ট অব সার্ভিস নিরুপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে নির্দেশ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে।

শুনানিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, এখন অন্যান্য বিদ্যুৎ সেবা থেকে পল্লী বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি। সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেন অনেকে। তাই বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে সিস্টেম লস কিভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনার পরামর্শ দেন শুনানীতে অংশগ্রহণকারীরা।