অন্দরে এক টুকরো বনসাই

0
268

juniper-bonsaiএই ইট পাথরের শহরে কার না মন চায় একটু সবুজের হাতছানি পেতে। তবে এই চারদেয়াল আর অট্টালিকার ঘেরা শহুরে এটা স্বপ্ন মনে হতে পারে আপনার কাছে। আর এই স্বপ্নকে বাস্তব করে দিতে পারে চার দেয়ালের ভিতর এক টুকরো  বনসাই।

বনসাইয়ের নাম শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে সবুজে ঘেরা এক অন্যরকম অনুভূতি ও নান্দানিক সৌন্দর্যের কথা। যে সৌন্দর্য আমাদের কখনো মোহিত করে তোলে কখনো নিয়ে যায় অরন্যের স্বর্গভূমিতে। প্রাণের স্পন্দন আর শিল্পকর্মের নান্দনিকতা একে অপরের পরিপূরক বলে বনসাই আজো জীবন্ত শিল্পকর্ম বলে পরিচিত।

বনসাই এর ইতিহাস থেকে জানা যায় প্রায় ২০০০ বছর আগে  চীনে এ শিল্পের আর্বিভাব ঘটে। যা পরে জাপান, ভিয়েতনাম, কোরিয়াসহ, বিশ্বের বহু দেশে বিস্তার লাভ করে । ধীরে ধীরে বনসাই বিস্তার লাভ করে দেশ হতে দেশান্তরে , শৈল্পিক সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে  জায়গা করে নেয় অন্দর মহলে। আমাদের দেশেও সে দিক থেকে পিছিয়ে নেই। বনসাই পিপাসুরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন বনসাইয়ের খোঁজে ও তৈরীতে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে ব্যস্ত।

একটি বাগান করতে গেলে প্রথমেই যে চিত্রটি আমাদের মাথায় চলে আসে তা হলো জায়গা নির্ধারণ । বনসাইয়ের বেলাতে এ ব্যাপারটি থাকলেও অন্যান্য বাগানের মত এর জন্য খুব বেশি জায়গা দরকার হয় না । একটি বৃক্ষের সব বৈশিষ্ট অক্ষুন্ন রেখে অগভীর ছোট পাত্রে রুপ দেয়াটাই হলো বনসাইয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। বনসাই তৈরিতে জায়গা নির্বাচন, গাছ নির্বাচন, গাছের শাখা প্রশাখা, শেকড় নির্বাচন, রোগ প্রতিরোধ ও বনসাইয়ের স্টাইল নির্বাচন করা জরুরি।

জায়গা নির্ধারণ:

বনসাইয়ের প্রধান বৈশিষ্ট হলো এর স্বল্প পরিসর। তাই স্বল্প পরিসরে অন্দরে সবুজ  বনের দেখা মেলাটা একরকম অর্শিবাদ স্বরূপ। একদিকে যেমন জয়াগা নিয়ে কোন অভিযোগের সম্ভাবনা থাকে না। তেমনিই নতুনত্ব ও নান্দনিকতার এক দারুন উদাহরন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে আপনার অন্দর মহলের আনাচে কানাচে। তাই বনসাই কার পূর্বে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরী যেমন-azalea-bonsai-moyogi-3

(১)  আপনি বনসাই কোথায় রাখবেন তা নির্দিষ্ট করে ফেলুন ।

(২)  ঘরের ভেতরে রাখলে অবশ্যই গাছের চাহিদা অনুযায়ী আলো, আদ্রতা, পাবে এমন জায়গা নির্বাচন করুন।

(৩)  বারান্দায় রাখলে গরম বা বৃষ্টিপাতের জন্য সেডের ব্যবস্থা করা যাবে কিনা খেয়াল রাখুন।

বনসাই এ উপযুক্ত গাছগুলো:

বনসাই তৈরীতে গাছ নির্ধারণ করা জরুরী। যেসব গাছ আমাদের দেশের আবহাওয়ার জন্য উপযোগী একমাত্র সেগুলোই নির্বাচন করতে হবে। প্রয়োজনে বনসাই এক্সপার্টদের সহযোগিতা নিতে পারেন। আমাদের দেশে যে সব গাছ বনসাই উপযোগী তাহলোঃ-

বট, বকুল, শিমুল, পাকুড়, তেতুল, বাবলা, পলাশ, বিলিতিবেল, ছাতিম, হিজল, জাম, নিম, বেলি, গাব, শেফালী, পেয়ারা, ডালিম, তমাল, জাম্বুরা, কমলা, তুলশী, বহেরা, বরই, কামিনী, মেহেদী, কড়ই, অর্জুন, জারুল, করমচা, কদবেল, দেবদারু, হরিতকি, সাইকেশ, কামরাঙ্গা, আমলকি, কৃষ্ণচূড়া, জবা, অশ্বঘবট, নুডাবট, পাশুরবই, কাঠালবট, রঙ্গন,  লাল গোলাপ, কনকচাপা, পাথরকুচি, বাগান বিলাস, চালতাবাহার, লাল জামরুল, আলমন্ডা, তেতুল, ইত্যাদি থেকে বনসাই করা যেতে পারে।

আর যে গাছটির বনসাই তৈরি করবেন সেটার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ভালভাবে জেনে নিন। নির্বাচিত গাছের বিচি অথবা নার্সারী থেকে চার সংগ্রহ করা যেতে পারে।

এখান থেকে আপনার পছন্দের গাছটি নিয়ে আসতে পারেন অন্দরে।

পরিচর্যা:

আপনার শখের বনসাই নষ্ট হয়ে যেতে পারে একটু যত্নের অভাবে।  তাই সুন্দর সবুজ দৃষ্টি নন্দন বনসাই তৈরিতে যা খেয়াল রাখবেন-

bonsai-tree-history1(১)  গাছকে নিয়মিত খাবার দিতে হবে।

(২)  অতিরিক্ত পানি ও রোদ থেকে দূরে রাখতে হবে।

(৩)  ধুলো-ময়লা মুক্ত রাখতে নিয়মিত পানি দিয়ে পাতা ও ডাল মুছে দিতে হবে।

(৪)  এমন স্থানে রাখুন যেখানে আলো বাতাস চলাচল করে। এবং মানুষের সমাগম কম।

(৫)  নির্ধারিত আকৃতি ঠিক রাখতে ডালপালা বাদে ছাটাই করুন। ছাটাইয়ের নির্ধারিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন।

(৬) এক বছর অন্তর টবের মাটি পরিবর্তন করুন।

(৭)  বনসাইয়ের টবে অন্য কোন গাছ/আগাছা জন্মানো মাত্র তুলে ফেলুন ।

(৮) ঔষুধ ব্যবহারের ৭ দিনের মধ্যে গাছে পানি না দেয়া ভালো।