রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার কোটি টাকা কমালো এনবিআর

0
59

NBR_march_6দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিরতার কারণে বছরের প্রথম সাত মাসে বিরাট অংকের ঘাটতি থাকায় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১১ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় এনবিআরের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে নতুন এ লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। এ সময় এনবিআরের বিভিন্ন অনুবিভাগের সদস্য, সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গোলাম হোসেন জানান, বছরের তিন মাসেরও অধিক সময় দেশের আভ্যন্তরীণ অবস্থা ব্যবসা-বাণিজ্য ও আমদানি রপ্তানির অনুকূলে ছিলো না। এসময় ব্যবসায়ীরা কর প্রদান করতে পারেনি। আমদানি না থাকায় শুল্ক থেকে বঞ্চিত হয়েছে এনবিআর। সব মিলিয়ে প্রথম সাত মাসে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। সব মিলিয়ে চলতি বছরের ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ১১ হাজার কোটি কমিয়ে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা বছরের শুরুতে নেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ দশমিক ০৮৮ শতাংশ কম।

তিনি আরও বলেন, এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও গত বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি অনেক ভালো রয়েছে। এ পর্যন্ত শুল্ক বিভাগ ছাড়া অন্য দু’টি অনুবিভাগ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। এর মধ্যে শুল্ক অনুবিভাগে -১ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। আর মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও আয়কর যথাক্রমে ১৪ শতাংশ ও ১১ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি রয়েছে।

এসময় আগামি অর্থবছর ২০১৪-১৫ বাজেট পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, এ বছর আমরা এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করবো যাতে দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সকল দিক থেকে উর্ধ্বমুখী থাকবে।

এ লক্ষ্যে অটোমেশন পদ্ধতিকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক ৫৭ মিলিয়ন টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে। এছাড়া এনবিআরের সকল অনুবিভাগের আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরমধ্যে মূসক আইন ১৯৯১ এর পরিবর্তে ২০১৩ প্রায় চুড়ান্ত হয়েছে। আর আয়কর ও শুল্ক আইন ড্রাফট আকারে করে মেইলে দেওয়া হয়েছে। অতিশীঘ্রই চুড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।