জবি’র আন্দোলনে উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ব্যাংক

0
40
ছবি: ফাইল ছবি

_JOY9655বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখায় তালা এবং ব্যাংক চত্বরকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) জমিতে অবস্থিত দাবি করায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইতোমধ্যে পুলিশকে চিঠি দিয়ে সেখানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বলেছে ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক এ সংস্থাটি। পাশাপশি শাখাটি তাদের নিজস্ব জমিতে অবস্থিত বলে দাবি করেছে তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, পাকিস্তানি আমল থেকেই এটা ব্যাংকের শাখা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাদের কাছে ব্যাংক এবং জমির অনুকূলে পর্যাপ্ত কাগজ সংরক্ষিত আছে। বরং কিছু জমি জগন্নাথ কলেজের স্বার্থে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো বলে তারা দাবি করেন।

বেশ কিছু দিন ধরে বেদখল হওয়া হল উদ্ধার, নতুন হল নির্মাণ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখা স্থানান্তরসহ ৬ দফা দাবিতে জবি’র শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। এতে শিক্ষকরাও একাত্বতা প্রকাশ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার শাখাটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় ব্যাংকের ওই শাখার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু একাডেমিক ভবন’ লেখা একটি ব্যানার টানিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আর একই এলাকায় অবস্থিত সমবায় ব্যাংকের খালি জমি নিজেদের দখলে নিয়ে সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী টিএসসি ঘোষণা করেন তারা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যংকের ডেপুটি গভর্নর এস.কে সুর চৌধুরী অর্থসূচককে বলেন, শাখাটি বাংলাদেশ ব্যাংকের সব চেয়ে পুরাতন কার্যালয়। পাকিস্তান আমলে তৎকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এস্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ডেপুটি গভর্নর ওই অফিসে কাজ করতেন। তাই এর সাথে একটি ঐতিহাসিক পটভুমি জড়িয়ে আছে। তাছাড়া শাখাটিতে এখনও ব্যাংকিং কার্যক্রম চলছে। তাই আমরা সহজেই জায়গাটি ছেড়ে দিতে পারি না।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেহেতু সরকারেরই একটা অংশ তাই আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এর পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ওই জমির কাগজ সংরক্ষিত আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরির আগে সব ধরণের কাগজপত্র নিশ্চিত করা হয়। এখানে সবকিছু নিশ্চিত করেই শাখা করা হয়েছে এবং তার সব ধরণের কাগজপত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে।

অবশ্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ৩৮ শতাংশ জায়গা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সদরঘাট শাখাটি কার্যক্রম চালাচ্ছে। পাকিস্তান আমলে এ শাখাটি পুরোনো ও ছেঁড়া নোট পোড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হত। ১৯৮৩ সালে ওই সময়ের রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ পরিদর্শনে এসে শাখাটি বিশ্ববিদ্যালয়কে বুঝিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন। পরে দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও কলেজ কর্তৃপক্ষ জায়গাটি বুঝে পায়নি।

পরবর্তী সময়ে ২০০৫ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণা দেন। এ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনুরোধে তিনি ব্যাংকের শাখাটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর ও এর কার্যক্রম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এরপরেও জায়গাটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সম্ভব হয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষের।

এসএই/