তিন হাজার কোটি টাকার কর জটিলতা: রিপোর্ট পর্যালোচনা করবে এনবিআর

আব্বাস উদ্দিন নয়ন

0
119
sim replacement tax nbr grameenphone banglalink robi
corporate tax

sim replacement tax nbr grameenphone banglalink robiচার মোবাইল ফোন অপারেটরের কাছে ৩ হাজার কোটি টাকা প্রাপ্য করের দাবিতে কিছুটা নমনীয় হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অপারেটরদের আপত্তির মুখে দাবি সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পর্যালোচনা করতে রাজী হয়েছে সংস্থাটি। অপারেটর চারটি হচ্ছে-গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও এয়ারটেল।

প্রতিস্থাপন করা সিমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ কর দাবি। এনবিআর দাবি করে আসছে, প্রতিস্থাপনের নামে অপারেটররা নতুন সিম বিক্রি করেছে। কিন্তু ওই সিমে প্রাপ্য কর জমা দেয়নি। অন্যদিকে অপারেটরদের দাবি, তারা নষ্ট ও হারিয়ে যাওয়া সিমের পরিবর্তে নতুন সিম ইস্যু করেছে। তাই এসব সিমে নতুন কের কর দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান জটিলতা নিরসনে বুধবার সকালে চার অপারেটরের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এনবিআর। বৈঠকে সংস্থার চেয়ারম্যান  গোলাম হোসেন গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের আশ্বাস দেন।

জানা গেছে, বৈঠকে আলোচিত সিমগুলোর প্রকৃত ব্যবহারকারী চিহ্নিত করতে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনকে (বিটিআরসি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। কোন পদ্ধতিতে সিমের প্রকৃত ব্যবহারকারী সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে তা চূড়ান্ত করবে বিটিআরসির কারিগরি কমিটি। তার ভিত্তিতে এনবিআরও বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখবে। আর এ প্রক্রিয়ার জন্য সময় দেওয়া ১৫ দিন। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, দীর্ঘদিন ধরে এনবিআর চার কোম্পানির কাছে ৩ হাজার ৬২ কোটি টাকার মত বকেয়া কর দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে অপারেটররা এ দাবিকে অযৌক্তিক বলে আসছিল। এ নিয়ে কয়েক দফা আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জটিলতা নিরসনে একটি কমিটি গঠন করেছিল এনবিআর। সংস্থার কমিশনার আল আমিন প্রামাণিককে প্রধান করে গঠিত এ কমিটিতে টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি, মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব এবং চার অপারেটরের প্রতিনিধিও ছিল। কিন্তু সব সদস্য এক মত হতে না পারায় কমিটির প্রধান দাবি ৫২ কোটি টাকা কমিয়ে একটি রিপোর্ট দেয়। রিপোর্টে বিটিআরসি ও চার অপারেটরের প্রতিনিধিরা সই করেনি।বুধবারের বৈঠকে ওই রিপোর্টটিই পর্যালোচনা করে দেখতে রাজী হয়েছে এনবিআর।

সূত্র জানিয়েছে. বৈঠকে চার অপারেটরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় এনবিআর যে পদ্ধতিতে করের হিসাব বের করেছে তা ত্রুটিপূর্ণ। সঠিক পদ্ধতিতে হিসাব করা হলে তা মিলবে না। এনবিআর কিছু কর পাওনা থাকলেও থাকতে পারে, তবে তার পরিমাণ হবে একেবারে নগন্য। তাদের অনুরোধে এনবিআর রিপোর্টটি পর্যালোচনা করে দেখতে রাজী হয়।

উল্লেখ, গত মাসের শেষ ভাগে এনবিআর গঠিত ওই কমিটির রিপোর্টের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীকে একটি চিঠি দেয় চার অপারেটর। তাতে সঙ্কট নিরসনে অর্থমন্ত্ররীর হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানানো হয়। আর তার নির্দেশে বুধবার অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠকে বসে এনবিআর।

এনবিআরের সর্বশেষ দাবি অনুসারে, গ্রামীণফোনের কাছে ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা, বাংলালিংকের কাছে ৭৬২ কোটি টাকা, রবির কাছে ৬৪৭ কোটি টাকা এবং এয়ারটেলের কাছে ৩৯ কোটি টাকা কর পাবে তারা। যদি এ কর দিতেই হয়, তাহলে কোম্পানিগুলো বেশ চাপে পড়বে। গ্রামীণফোনের কাছে দাবিকৃত বকেয়া করের পরিমাণ ২০১২ সালে কোম্পানির করা মুনাফার প্রায় তিনগুণ।