রোহিঙ্গা পাচার তদন্তে জাতিসংঘকে সহায়তা করবে থাইল্যান্ড

thai will help rohingaরোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাচারকারীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগে জড়িত থাকা থাইল্যান্ডের অভিবাসী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র্ ও জাতিসংঘকে সহায়তা করবে থাইল্যান্ড। গতকাল দেশটির প্রধানমন্ত্রী রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছেন ।

এ ব্যাপারে তিন দেশের ওপর  দুই মাস ব্যাপী তদন্তের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এই প্রতিবেদনের অভিযোগের ভিত্তিতে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র  শুক্রবার পুনরায় তদন্তের জন্য প্রস্তাব দেয়।

প্রতিবেদনে থাইল্যান্ডে অবস্থিত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমুদ্রের কাছাকাছি অপেক্ষমান মানবপাচারকারীদের নিকট হস্তান্তর করার রহস্য বের হয়ে আসে ।

তবে থাইপ্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রা প্রতিবেদনে উল্লিখিত এমন অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না, এটা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেখার  বিষয়। এ বিষয়ে তদন্তের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের সাথে যোগাযোগ করবে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।

রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। গত বছর নৃগোষ্ঠী রাখাইন সম্প্রদায় এবং রোহিঙ্গাদের সাথে দ্বন্দ্বে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ঘর ছাড়া হয়। এদের মধ্যে অধিকাংশই রোহিঙ্গা।

এ সময় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মায়ানমার থেকে নৌকায় করে পালিয়ে  যায় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম থাইল্যান্ডে অবস্থান করে। এছাড়া মালয়েশিয়া সীমান্তের কাছেও তাদের কেউ কেউ  গোপনে তাঁবু পেতে বসতি স্থাপন করে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় রোহিঙ্গাদের মধ্য থেকে অনেকেই আহত হন এবং যারা নিহত হয়েছেন তাদের সংখ্যাও কম নয়।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রতিনিধি ভিভিয়ান টান রোহিঙ্গা পাচারের এই  অভিযোগ খুব তাড়াতাড়ি তদন্ত  করা দরকার বলে জানান।

পরে যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘের সাথে একমত পোষণ করে। তারা  বলছে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরকে পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার সাথে জড়িত থাই অভিবাসী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব। যুক্তরাষ্ট্রের মেরি হার্ফ জানান, এ বিষয়ে তদন্তের জন্য থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে।

এসআর/ এআর