‘চাহিদাপত্র এসেছে, যেকোনো সময় মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু’

নিজস্ব প্রতিবেদক

0
41
বিদেশ যেতে নিবন্ধন করছেন বাংলাদেশিরা।ফাইল ছবি।

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র চলে এসেছে। এখন যে কোনো সময় যেকোনো সময়ই কর্মী যাওয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

আজ মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘অভিবাসীদের অগ্রন্থিত গল্প: স্বপ্ন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক বই প্রকাশ অনুষ্ঠান শেষে এ কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বিদেশ যেতে নিবন্ধন করছেন বাংলাদেশিরা।ফাইল ছবি।
বিদেশ যেতে নিবন্ধন করছেন বাংলাদেশিরা।ফাইল ছবি।

তিনি বলেন, চাহিদাপত্র চলে এসেছে। আর চলতি বছরেই পাঁচ থেকে সাত লাখ কর্মী মালয়েশিয়া যাবে।

অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু)  আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়া সব খাতে কর্মী নেবে। এবার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া হবে ডিজিটাল। তাদের যত লোক লাগবে, তারা দূতাবাসে চাহিদাপত্র পাঠাবে। প্রত্যেক কর্মীর জন্য আলাদা চুক্তিপত্র হবে। তবে যে যেই কাজে যাবেন, তাকে তিন বছর সেই কাজেই থাকতে হবে।

১৫০ জন অভিবাসীর জীবনকাহিনি নিয়ে রামরু থেকে প্রকাশিত বইটির মোড়ক উন্মোচন করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অভিবাসীরা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের কারণেই আজ রিজার্ভ শক্তিশালী। তবে অভিবাসীদের যেমন সাফল্য আছে, তেমনি দুঃখ আছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অভিবাসী ও তাদের পরিবারের কল্যাণের জন্য কাজ করছে। নতুন নতুন বাজার চালুর চেষ্টা চলছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাঁচ থেকে আট লাখ টাকা খরচ করে অনেকে বিদেশে যান। কিন্তু বেতন মাত্র ১২ হাজার টাকা। যারা যাচ্ছেন, তাদের হিসাব করা উচিত, এই টাকা তিন বছরে উঠবে কি না। কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালদের কথায় অনেকে প্রতারিত হন। দুই দেশেই এই দালালেরা আছে। আমরা এগুলো বন্ধ করতে চাই। যারা যাচ্ছেন, তারা কত দিনের জন্য যাচ্ছেন, কী করবেন—এসব ব্যাপারে চুক্তি থাকতে হবে।

 উল্লেখ, এর আগে ২০১৫ সালের জুনে মালয়েশিয়া বলেছিল, বাংলাদেশ থেকে আগামী তিন বছরে তারা ১৫ লাখ কর্মী নেবে। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জি টু জি প্লাস (সরকারি ও বেসরকারিভাবে) পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকার সমঝোতা স্মারকে সই করে। কিন্তু এর ১২ ঘণ্টার মধ্যেই মালয়েশিয়া জানায়, এই মুহূর্তে তারা আর কোনো কর্মী নেবে না। সাত মাস পর সেপ্টেম্বরে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে সব খাতে কর্মী নেওয়ার ঘোষণা দেয় মালয়েশিয়া। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কর্মী যাওয়া শুরু হয়নি। এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক সেলিম রেজা, ডিএফআইডির কর্মকর্তা জোয়েল হারডিং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফখরুল আলম, সুমাইয়া খায়ের, সেন্ট্রাল উইমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পারভীন হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

টি