ঢাবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৯

0
58
DU

DUতুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় গ্রুপের প্রায় ৯ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ চলাকালে উভয় গ্রুপ অস্ত্রের মহড়া দিয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানায়।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের প্রচার-সম্পাদক সাদিকুর রহমান সিফাত, শাকিল, রাকিব, আবদুল্লাহ আল মুবিন, রিয়াজ, আসাদ, অভি, ফুয়াদ এবং রিজা।

জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ-সম্পাদক মোতাহের হোসেন প্রিন্সের নিয়ন্ত্রণাধীন ১১০ নম্বর রুমের এক কর্মী সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওনের নিয়ন্ত্রণাধীন ১০৯ নম্বর রুম থেকে এক জোড়া জুতা নিয়ে যায়।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে ১০৯ নম্বর রুমের কর্মী জুতা জোড়া না পেয়ে ১১০ নম্বর রুমে গিয়ে জুতা দেখতে পায়। জুতা আনতে গিয়ে ওই কর্মী রুমের ছাত্রদের লক্ষ্য করে হুমকি-ধামকি ও বাজে মন্তব্য করেন। এ সময় বিষয়টি নিয়ে তাদের মাঝে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তা দুই রুমের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়।  পরবর্তীতে উভয় গ্রুপ অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে সভাপতি গ্রুপের সিফাত, শাকিল, রাকিব এবং সাধারণ-সম্পদক গ্রুপের মুবিন, রিয়াজ, জহির, অভি ও ফুয়াদ আহত হন। পরে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।

পরে হলের আবাসিক শিক্ষক ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। হলের অস্ত্রের মজুদ সন্ধানে রাত ৪টার দিকে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে শাহবাগ থানার পুলিশ সমস্ত রুম তল্লাশি করেন।

এ বিষয়ে হল সাধারণ-সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে মারামারি হয়েছে। এরা হলের সাধারণ ছাত্র, ছাত্রলীগের কেউ নয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনাটি মিমাংসা করেছি।

এ ব্যাপারে হল সভাপতি আবু সালমান প্রধান শাওন বলেন, জুতা রাখার বিষয় নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়েছে। আমি ঘটনাটি শুনতে পেরে সেখানে যাই। পরে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ আ ব ম ফারুক বলেন, এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্খিত। আমরা এ জাতীয় ঘটনার পুনরাবৃত্তি চাই না। এ বিষয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।